সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০১:০৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ভান্ডারিয়ায় মিরাজুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রাজপথে মোকাবেলা করতে হবে — যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ভান্ডারিয়ায় শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ভান্ডারিয়া উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় মৎস্যজীবিদের মাঝে জাল ও বকনা বাছুর বিতরণ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কাচারি ঘর বিলুপ্তির পথে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় চেয়ারম্যানসহ দুই ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত ভান্ডারিয়ায় পেনশন স্কিম মেলা উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে পিরোজপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেইন্দুরকানীতে শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগারে আগুন জেপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহিবুল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল পিরোজপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ঢাকায় গ্রেফতার ভান্ডারিয়ায় ককটেল ফাটিয়ে, কুপিয়ে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাচনে তিন পদে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল কাউখালীতে গাজার গাছ সহ যুবক গ্রেফতার ভান্ডারিয়ার অটো চালক কাওসারের লাশ কাঠালিয়ায় উদ্ধার কাউখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মিশুক ড্রাইভার নিহত ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মিরাজুল ইসলামের মনোনয়নপত্র দাখিল ভান্ডারিয়ায় স্কাউট ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন ভান্ডারিয়ায় পিকআপ চাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু
‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও দক্ষ’

‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও দক্ষ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশশগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত, স্বয়ংসম্পূর্ণ, চৌকস ও পেশাগতভাবে দক্ষ।

আজ রবিবার সকালে ভাটিয়ারী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের প্রশিক্ষণ সমাপ্তি ও অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি কৃতী ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং অনস্বীকার্য। এ কারণেই একটি প্রশিক্ষিত, শক্তিশালী ও দক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির শুভ উদ্বোধন করেন; যা ছিল বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকেই সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি। এর আওতায় আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন নতুন পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২০০০ সালে সর্বপ্রথম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে মহিলা অফিসার নিয়োগ এবং ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম মহিলা সৈনিক ভর্তির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মহিলা কর্মকর্তাদের লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রদান এবং কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন মহিলা অফিসার কনটিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মিলিটারি একাডেমিকে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিতে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখানে সকল প্রকার অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই একাডেমিতে বিভিন্ন বিষয়ে চার বছর মেয়াদি অনার্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্যাডেটদের কমিশন লাভের সময়কাল দুই বছর থেকে তিন বছরে উন্নীত করা হয়েছে। একটি প্রশিক্ষিত ও আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনে এই উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে জাতির পিতা যে মিলিটারি একাডেমির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই সফল বাস্তবায়িত রূপ আজকের এই বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)।

নবীন অফিসারদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দের। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত অফিসার হিসেবে তোমরা আজ বৃহত্তর কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ। আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তোমাদের ওপর ন্যস্ত হলো দেশ মাতৃকার, মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, আমি তোমাদের জাতির পিতা হিসাবে আদেশ দিচ্ছি, তোমরা সৎ পথে থেক, মাতৃভূমিকে ভালবাইসো। ন্যায়ের পক্ষে দাড়াবা, গুরুজনকে মেন, সৎ পথে থেক, শৃঙ্খলা রেখ, তাহলে জীবনে মানুষ হতে পারবা। সুতরাং দায়িত্ব পালনে তোমাদের সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

এবার মোট ২৩৪ বাংলাদেশি, ২৯ জন সৌদি অ্যারাবিয়ান, একজন ফিলিস্তিনি, একজন শ্রীলঙ্কানসহ মোট ২৬৫ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের মধ্যে ৭৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে ২০৭ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী ক্যাডেট রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে প্যারেড ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি কৃতী ক্যাডেটদের মাঝে পদক প্রদান করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার সাবির নেওয়াজ শাওন ৭৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে সেরা চৌকস ক্যাডেট বিবেচিত হন এবং গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার মো. বরকত হোসকন সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। পরে ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন এবং পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‌্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, আঞ্চলিক অধিনায়কসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, মন্ত্রী-সংসদ সদস্য, কূটনীতিক ও শিক্ষা সমাপনী ব্যাচের কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!