সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে কাউখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের শেষ বিদায় কাউখালীতে ব্রীজ নির্মান কাজ ৫ বছরে শেষ না হওয়ায় জনগনের ভোগান্তি চরমে কাউখালীতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার একটি অংশ–মহিউদ্দিন মহারাজ (এমপি) মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষার হলে দুই ভাই ভান্ডারিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন শাহ বাবুল মারা গেছেন পিরোজপুরে প্রতারণা মামলায় এহ্সান গ্রুপের অফিস সহকারী নাজমুল গ্রেফতার কাউখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু কাউখালীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারনা ভান্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া নাজিরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী নিহত কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসন অনাবাদি জমি আবাদে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কাউখালীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত কাউখালীতে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সংসদে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানজনক ভাতা দাবি মহিউদ্দীন মহারাজের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য হয়েছে মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুরে উজ্জ্বল হত্যার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে হাতুরিপেটার অভিযোগ বেবী মালেঙ্গা খ্যাত কাউখালীর ক্রিকেটার সোহাগের স্বপ্ন ছাই হয়ে যাবে অর্থাভাবে
মায়ের দুল বিক্রির টাকায় লেখাপড়া শুরু করা মেয়ে আজ এএসপি

মায়ের দুল বিক্রির টাকায় লেখাপড়া শুরু করা মেয়ে আজ এএসপি

এ বছর বেগম রোকেয়া দিবসে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে জেলা পর্যায়ে সেরা জয়িতা হয়েছেন মারুফা নাজনীন। জয়িতাদের সন্মাননা দেয়ার অনুষ্ঠানে মারুফা বলেন, আজ আমাকে আপনারা যে সন্মাননা দিচ্ছেন, আসলে এই সন্মাননা পাওয়ার যোগ্য আমার মা। ওই দিন মঞ্চে ডিসি মা-মেয়ের হাতে জেলার সেরা জয়িতার ক্রেস্ট তোলে দেন।

মারুফা নাজনীন একজন পুলিশ অফিসার। এলাকায় সে পরিচিত লিপি নামে। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগাতি সার্কেল এএসপি হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বাবা আখতার হোসেন। মায়ের নাম ফরিদা ইয়াছমিন। বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পৌর এলাকার শহীদ আব্দুর সাত্তার রোডে।

খুব সাধারণ পরিবারের একজন মেয়ে। তিন ভাই বোনের সংসারে মারুফা সবার বড়। তার বাবার আরো একটি সংসার ছিল। তাই তাদের ঠিক মতো ভরণপোষণ করতেন না। দুই তিন মাস পর বাবা একবার তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। আবার কোনো সময় আসতেন না। বাবা দুই তিন দিন পর পর ২০০ টাকা পাঠাতেন। তা দিয়ে ছোট বোনের এক প্যাকেট দুধ আর এক কেজি চিনি কিনলে এক কেজি চাল কেনার মতো টাকা থাকতো না। যেখানে চাল কেনার টাকা নেই সেখানে বাজার কেনার কথাটা থাক।

মারুফা বলেন, মা ভাত রান্না করতো আর মা মেয়ে দু’জনে লবণ পানি দিয়ে খেয়ে দিন পার করতাম। আমার পড়ালেখার জন্য বাবা কখনো ভাবতো না। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পড়াশোনা একেবারে প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। টাকার অভাবে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারিনি। এক বছর লেখাপড়া বন্ধ ছিল। পরের বছর মা তার কানের এক জোড়া দুল বিক্রি করে অতি কষ্টে ঘাটাইল এস.ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশন করে আনেন। দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু করলাম। মা ঠিক মতো খাতা কলম কিনে দিতে পারতো না। একটা ছাড়া দুইটা জামা আমার ছিল না।

তিনি বলেন, মা সেলাইয়ের কাজ জানতো। সে সময় একজন লোকের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা ধার করে কিস্তিতে একটা সেলাই মেশিন কিনেন। এরপর রান্নাসহ ছোট দুই ভাই বোনের দেখাশোনার কাজ আমার উপর এসে পড়ে। মা শুরুতে বাজার করার ব্যাগ সেলাই করতেন। প্রতি ব্যাগে পেতেন ২০ পয়সা করে। তারপর এলাকায় পরিচিত হলে কাপড় সেলাই করা শুরু করেন।

মারুফা বলেন, এভাবেই চলতে থাকে আমাদের সংসার। পড়ালেখার পাশাপাশি রাত জেগে মায়ের কাজে সাহায্য করতাম। এরই মধ্যে এসএসসি’র টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করি আমি। পরে স্কুলের ইংরেজি স্যার খাজা ফেরদৌস বাসায় এসে আমাকে এক রীম খাতা এবং দশটা কলম উপহার দেন। সেই সময় স্যার বলেছিলেন, তোর কাছে একটাই চাওয়া, শুধু ভালো একটা রেজাল্ট এনে দিবি। স্যার সব সময় আমার খোঁজ নিতেন। আমি সারা জীবন স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। এসএসসি পাস করার পর ঘাটাইল জি.বি.জি কলেজে ভর্তি হই। কলেজে বেতন দিতে হতো না। স্যারেরা আমাকে প্রাইভেট পড়াতেন ফ্রিতে। এভাবেই এসএসসি এবং এইচএসসি পার করি।

মারুফা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আমার হবে না, তাই ঘাটাইলেই বিএসসি করবো, এমন সিদ্ধান্ত নিলাম। হঠাৎ একদিন মা বললেন, তোমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাবো। আমি বললাম ফরম কিনে দিতে পারবে না কিভাবে পরীক্ষা দেব। যাক মায়ের কথা মতো শুরু হলো ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি। চান্স পেলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে।

পড়ালেখার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়াতাম। এরই মাঝে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে শিক্ষা ঋণ নেই। অনার্স শেষ বর্ষে এসে আমার বিয়ে হয়। মাস্টার্স পড়ার খরচ স্বামী চালিয়েছেন। মাস্টার্স শেষ করে ৮ মাস একটি এনজিওতে চাকরি করি। এরই মধ্যে ফার্ম স্ট্রাকচার এর উপর থিসিস শেষ করি। পরে ফেনী সিটি কলেজে কৃষি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি। চাকরিরত অবস্থায় ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেই।

ৎবিসিএস’র চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ প্রশাসন (এএসপি) পদে টিকে যাই। এ খবর শোনার পর সেদিন আনন্দে অনেক কেঁদেছিলাম। আর আমার মা খুশিতে রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে থাকেন। দৌড়াতে দৌড়াতে রাস্তায় যাকে পান তাকেই বলতে থাকেন আমার মেয়ে এএসপি হয়েছে আর কাঁদতে থাকেন। আমি সর্বশেষে একটি কথাই বলতে চাই আমার মায়ের মতো মা যেন সব ছেলে মেয়েদের হয়।

সংসার জীবনে মারুফা, ব্যবসায়ী স্বামী মুজিবুল কাইয়ুম আরমান আর একমাত্র সন্তান শায়ানকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন।

মা ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, আমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া ছিল। আমার পরিশ্রম আজ সার্থক

সংগ্রামী এই মায়ের আরেক মেয়ে নুসরাত জাহান ইভা পড়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ১ম বর্ষে ও একমাত্র ছেলে ইফতেখাইরুল হাসান পড়ে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে অনার্স ১ম বর্ষে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana