সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে কাউখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের শেষ বিদায় কাউখালীতে ব্রীজ নির্মান কাজ ৫ বছরে শেষ না হওয়ায় জনগনের ভোগান্তি চরমে কাউখালীতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার একটি অংশ–মহিউদ্দিন মহারাজ (এমপি) মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষার হলে দুই ভাই ভান্ডারিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন শাহ বাবুল মারা গেছেন পিরোজপুরে প্রতারণা মামলায় এহ্সান গ্রুপের অফিস সহকারী নাজমুল গ্রেফতার কাউখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু কাউখালীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারনা ভান্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া নাজিরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী নিহত কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসন অনাবাদি জমি আবাদে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কাউখালীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত কাউখালীতে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সংসদে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানজনক ভাতা দাবি মহিউদ্দীন মহারাজের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য হয়েছে মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুরে উজ্জ্বল হত্যার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে হাতুরিপেটার অভিযোগ বেবী মালেঙ্গা খ্যাত কাউখালীর ক্রিকেটার সোহাগের স্বপ্ন ছাই হয়ে যাবে অর্থাভাবে
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করল আদালত

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করল আদালত

পিলখানা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে সংশ্লিষ্ট কোর্টের বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর রায়টি প্রকাশিত হয়। সর্বোচ্চ আদালতের ওয়েবসাইটে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এ ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসামির ফাঁসির আদেশ সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় আগেই। গতকাল মঙ্গলবার রায় প্রকাশের কথা প্রকাশিত হয়েছিল অনেক গণমাধ্যমে। তবে শেষ পর্যন্ত গতকাল তা প্রকাশিত হয়নি। বিচারপতিরা এজন্য কয়েক দফা বৈঠক করেন। প্রায় ২৯ হাজার পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় ইতোমধ্যে ভুলত্রুটি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হয়। বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় প্রায় দুই বছর আগে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়নি এতদিন। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চের ওই তিন বিচারপতির আজ সকালে রায়ে স্বাক্ষর করার পর তা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এই রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে ছয় বছর আগে, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হলো। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রথমে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি মো. শওকত হোসেন মূল রায় লেখেন। তিনি প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পৃষ্ঠার রায় লিখে বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতির কাছে পাঠান। এরপর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী পৃথকভাবে তাঁর অংশ লিখেছেন। তিনি লিখেছেন প্রায় ১৬ হাজার পৃষ্ঠা। এরপর বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার লিখেছেন এক হাজার ১০০ পৃষ্ঠা। এই তিনজনের লেখা রায় একত্র করে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসামির ফাঁসির আদেশ সংবলিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবে উভয় পক্ষই। এরপর আপিলের বিচারের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। যদিও এরপর রিভিউ আবেদন করার সুযোগ থাকবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করা ছাড়া আর কোনো সুযোগ থাকবে না। এই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘বিডিআর’ নামটি পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) করা হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস সদর দপ্তরে সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় ওই বছরের ৪ মার্চ লালবাগ থানার ওসি নবজ্যোতি খীসা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি ৭ এপ্রিল নিউ মার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। মামলায় নাম উল্লেখ করে আসমি করা হয় ডিএডি তৌহিদসহ ছয়জনকে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি দেখানো হয় প্রায় এক হাজার জোয়ানকে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেয়। হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৮০১ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় বিচার শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত রায় দেন। সে সময়কার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি) এ মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ২৭৮ জনকে বেকসুর খালাস দেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana