রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে কাউখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের শেষ বিদায় কাউখালীতে ব্রীজ নির্মান কাজ ৫ বছরে শেষ না হওয়ায় জনগনের ভোগান্তি চরমে কাউখালীতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার একটি অংশ–মহিউদ্দিন মহারাজ (এমপি) মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষার হলে দুই ভাই ভান্ডারিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন শাহ বাবুল মারা গেছেন পিরোজপুরে প্রতারণা মামলায় এহ্সান গ্রুপের অফিস সহকারী নাজমুল গ্রেফতার কাউখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু কাউখালীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারনা ভান্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া নাজিরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী নিহত কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসন অনাবাদি জমি আবাদে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কাউখালীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত কাউখালীতে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সংসদে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানজনক ভাতা দাবি মহিউদ্দীন মহারাজের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য হয়েছে মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুরে উজ্জ্বল হত্যার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে হাতুরিপেটার অভিযোগ বেবী মালেঙ্গা খ্যাত কাউখালীর ক্রিকেটার সোহাগের স্বপ্ন ছাই হয়ে যাবে অর্থাভাবে
ইন্দুরকানীতে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় ভাংচুরের অভিযোগ, আহত-২

ইন্দুরকানীতে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় ভাংচুরের অভিযোগ, আহত-২

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অনুষ্ঠিত মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের মাদ্রাসায় ভাংচুর ও অপর পক্ষের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম কলারন আজাহার আলী দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর ধরে উত্তর পশ্চিম কলারন আজাহার আলী দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বালিপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান। গত সোমবার (১৩ জানুয়ারী) উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদের উপস্থিতিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ঐ প্রতিষ্ঠানের এক জন শিক্ষকের মেকানিজমে মিজানকে হারিয়ে আবু মোহাম্মাদ নামে এক ব্যক্তিকে বিজয়ী করায় শিক্ষকদের প্রতি রুষ্ট হন মিজান। এদিকে বুধবার সকাল ১১ টার দিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এসে মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সালামের কাছে খান মো: নাসির উদ্দিন (যিনি উপজেলা যুবদলের বর্তমান সাধারন সম্পাদক) নামে এক শিক্ষকের প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চেয়ে হাজিরা খাতা দেখতে চান এবং কোন কারন ছাড়াই ঐ শিক্ষকের প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতির বিষয়টি হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তোলার জন্য বলেন মিজান। প্রথমে মাদ্রাসা সুপার হাজিরা খাতা বের করতে গড়িমসি করলেও পড়ে চাপের মুখে খাতা বের করে দেন তাকে। এসময় খবর পেয়ে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য খোকা, সামসু হাওলাদার, বাদল সহ কয়েকজন বহিরাগত লোক এসে প্রতিষ্ঠানে কেন ঢুকা হয়েছে বলে মিজানকে ধমক দেন। এসময় তাদের মধ্যে বাক বিতন্ডতার খবর পেয়ে মিজানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ ও তার মা সেখানে আসলে মিজানের ছেলেকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং তার মাকে ধাক্কা দিয়ে ইটের রাস্তায় ফেলে দেন। এতে তার মা কোমড়ে ও ছেলে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ ঘটনার খবর পেয়ে মিজানের কিছু লোকজন সেখানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে।পরে এ ঘটনার খবর পেয়ে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে উত্তর পশ্চিম কলারন আজাহার আলী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ আব্দুস সালাম জানান, বেশ কিছু লোকজন নিয়ে মাদ্রাসায় আসেন যুবলীগ নেতা মিজান। এসময় মাদ্রাসার বেশ কয়েকটি শ্রেণি কক্ষের আসবাবপত্র ভাংচুর করেন

মিজান ও তাঁর লোকজন। এমনকি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে হামলা চালিয়ে কিছু কাগজপত্র নিয়ে যান তিনি। এসময় শিক্ষকদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানালে তিনি পুলিশ পাঠানোর পর পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রনে আসে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখান করে পাল্টা অভিযোগ তোলেন যুবলীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান। তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদেরু জানান, আমার নেতৃত্বে মাদ্রাসায় কোন হামলা কিংবা কোন ধরনের কাগজপত্র ছিনিয়ে আনার ঘটনা ঘটেনি। আমি ওখানে একাই গিয়েছিলাম। বরংচ উল্টো মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য খোকা, সামসু হাওলাদার, বাদল নামের কিছু লোক আমার ছেলে ও মায়ের উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করেছে। বর্তমানেও আমি এ মাদ্রাসার সভাপতি। বুধবার সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে একজন শিক্ষক অনুপস্থিত দেখে সুপারকে হাজিরা খাতা নিয়ে আসতে বলি। কারন ঐ শিক্ষক প্রায়ই প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে তিনি একটি পত্রিকায় উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেণ। মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকার পরেও যেদিন আসেন তখন সব হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে থাকেন।  এমনকি আজাহারিয়া মাদ্রাসায় নির্বাচনে ও আমার নিকট থেকে ৫০ হাজার টাক নেন শিক্ষকদেন খরচের কথা বলে। পরে আামি জানতে পারি ঐ ৫০ হাজার টাকা ও একা নিয়েছে। আমি যখন মাদ্রাসায় গিয়ে নাছিরের অনুপস্থিতের কথা জানতে চাই তখন মাদ্রাসায় কয়েক জন লোক এসে আমি কেন মাদ্রাসায় এসেছি তাই জানতে চায়।আমিগত ১০ টি বছর এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দ্বায়ীত্ব পালন করেছি এবং আগামি কয়েকমাস আমার মেয়াদ বাকি আছে। কিন্ত তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আমাকে হুমকি দিতে থাকে। এ খবর জানতে পেরে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে উদ্ধারের জন্য মাদ্রাসায় আসলে আমার মা ও আমার ছেলের উপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করা হয়। মিজান অভিযোগ করে আরো জানান, আমি চলে আসার পর তারা নিজেরাই চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্জ ভাঙচুর করে আমার উপর দোষ চাপানোর চেস্টা করছে আমার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠনকে ধংশের চেষ্ঠাকরছে ঐ মহলটি।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ হাবীবুর রহমান জানান, একটি মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি। মাদ্রাসায় কয়েকটি চেয়ার ভাংচুরের খবর পেয়েছি। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana