সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে কাউখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের শেষ বিদায় কাউখালীতে ব্রীজ নির্মান কাজ ৫ বছরে শেষ না হওয়ায় জনগনের ভোগান্তি চরমে কাউখালীতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার একটি অংশ–মহিউদ্দিন মহারাজ (এমপি) মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষার হলে দুই ভাই ভান্ডারিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন শাহ বাবুল মারা গেছেন পিরোজপুরে প্রতারণা মামলায় এহ্সান গ্রুপের অফিস সহকারী নাজমুল গ্রেফতার কাউখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু কাউখালীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারনা ভান্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া নাজিরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী নিহত কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসন অনাবাদি জমি আবাদে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কাউখালীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত কাউখালীতে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সংসদে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানজনক ভাতা দাবি মহিউদ্দীন মহারাজের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য হয়েছে মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুরে উজ্জ্বল হত্যার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে হাতুরিপেটার অভিযোগ বেবী মালেঙ্গা খ্যাত কাউখালীর ক্রিকেটার সোহাগের স্বপ্ন ছাই হয়ে যাবে অর্থাভাবে
‘দে দে দে ভাত দে’

‘দে দে দে ভাত দে’

সরকারি ভাতা না পাওয়া নওগাঁর মাহমুদা বেওয়া (ময়না)

দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো অনেক মানুষ না খেয়ে কিংবা আধপেটা খেয়ে কোনোরকম বেঁচে আছে। তেমনই একজন মাহমুদা বেওয়া (ময়না)। নওগাঁ সদর উপজেলার মসরপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মিরি ফকিরের স্ত্রী তিনি। বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই। রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়িঘরে বসবাস করেন। আলোর অভাবে ঘর থাকে অন্ধকারময়। মশা, মাছি ও পোকামাকড়ের সঙ্গে তাঁর বসবাস। তাঁর ডান হাত ও ডান পা প্রায় অচল। এ জন্য অসহায় ও শীতার্ত ময়নার প্রাকৃতিক কাজকর্ম বিছানাতেই সারতে হয়। ঘরে কোনো খাবার না থাকায় সবসময় তিনি ক্ষুধার তাড়নায় ভোগেন। রাস্তায় পথচারীদের শব্দ পেলেই ‘দে, দে, দে, দে…হামাক অ্যানা ভাত দে’ বলে চিৎকার করে বেড়ার ফাঁক দিয়ে সচল বাঁ হাতটি বাড়িয়ে দেন। সরকারি ও বেসরকারি সব প্রকার সহায়তা থেকে বঞ্চিত প্রতিবন্ধী ময়না। এত বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর দিকে কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তার দৃষ্টি পড়েনি।

এলাকাবাসী জানায়, মিরি ফকির ভিক্ষা করতে গিয়ে বংশ পরিচয়হীন কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন এক কিশোরীকে ঘরে নিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে বিয়ে করে নাম রাখেন মাহমুদা বেওয়া (ময়না)। প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের এক খণ্ড জমিতে তালপাতার তৈরি ছোট্ট ঘরে বসবাস করতেন তাঁরা। ভিক্ষা করে খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে চলছিল ময়না-মিরি ফকিরের সংসার। প্রায় ২৫ বছর আগে ভিক্ষুক স্বামী মিরি মারা গেছেন। এরপর থেকে একাই কখনো নওগাঁর বালুডাঙ্গা আবার কখনো নওহাটা বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছিলেন। তাঁর এই কষ্টের কথা ভেবে প্রতিবেশীরা সবাই মিলে পুনরায় তাঁকে তাঁর স্বামীর ঠিকানায় নিয়ে আসে। তাঁর জন্য সরকারি কোনো সাহায্য জোটেনি।

প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বৃদ্ধার বিষয়টি ভাবতেও কষ্ট লাগে। এই ঠাণ্ডার মধ্যে আলো-বাতি ছাড়া অচল হাত-পা নিয়ে একটি মানুষ আর কত দিন বাঁচতে পারে! সরকারি কোনো জায়গায় অথবা বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে গেলে সে হয়তো বাঁচত। তার এই অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগে।’

অসহায় ময়নাকে দেখাশোনার কাজে স্বেচ্ছায় নিয়োজিত প্রতিবেশী সাহারা বানু বলেন, ‘হামি মানসের বাড়িত কাম করে খাই। আশপাশের লোকেরা প্রতিদিন তাকে খাবার দেয়।’

প্রতিবেশী ডা. মোহাব্বত আলী বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে ময়না স্ট্রোক করেছিল। আমি আমার ক্লিনিকে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিস, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের কাছে গত দুই বছর ঘুরেছি। কিন্তু একটা কম্বল দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারেনি তারা।’

হাপানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফসার আলী বলেন, ‘আমি ওই বৃদ্ধাকে চিনি। ২০-২৫ বছর আগে তার ভিক্ষুক স্বামী মারা গেছে। একসময় তারা দুজনেই ভিক্ষা করে চলত। এখনতো সে পঙ্গু, বিছানা থেকেই উঠতে পারে না। কিছুদিন আগে তাকে একটা কম্বল দিয়েছি। তবে তার কোনো অভিভাবক নেই। থাকলে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে হয়তো তার নামে একটা কার্ড করে দিতাম।’

 

সুত্র কালের কন্ঠ

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana