সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ভান্ডারিয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত কৃষি কর্মকর্তা কর্তৃক সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কাউখালীতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন কাউখালীতে সংসারের হাল ধরতে বাবার পেশা খেয়া ঘাটের মাঝি হলেন স্কুল ছাত্রী মুনিরা ভান্ডারিয়ায় টাস্কফোর্স কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের দুর্যোগ সামগ্রী বিতরণ ভান্ডারিয়ায় ফুটপাতের অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ভান্ডারিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের ৪ মহিষের মৃত্যু ভান্ডারিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনশন চার ঘন্টা পর প্রত্যাহার ভান্ডারিয়ায় দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষনের চেষ্টা॥ লম্পটের আংশিক লিঙ্গ কর্তন কারারক্ষী পদে চাকুরীর প্রলোভন অর্থ আদায় ভান্ডারিয়ায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার ভান্ডারিয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকানীকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়া অভিযোগ (ভিডিও) ভান্ডারিয়ায় পাওয়ার গ্রিডে আগুন ৫ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ৪ ঘন্টা বন্ধ কাউখালীতে এনজিও ঋনে সাধারণ মানুষ জর্জরিত মঠবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে প্রশিক্ষণ ও উপকরন বিতরণ কাউখালীতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সার্ক জার্নালিষ্ট ফোরাম বাংলাদেশ চাপ্টার এর কমিটি ঘোষণা ইন্দুরকানীতে সাঈদীর মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর মৃত্যু পিরোজপুরে জাল টাকা ব্যবসায়ীর ১৪ বছরের কারাদন্ডাদেশ ভান্ডারিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার
‘দে দে দে ভাত দে’

‘দে দে দে ভাত দে’

সরকারি ভাতা না পাওয়া নওগাঁর মাহমুদা বেওয়া (ময়না)

দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো অনেক মানুষ না খেয়ে কিংবা আধপেটা খেয়ে কোনোরকম বেঁচে আছে। তেমনই একজন মাহমুদা বেওয়া (ময়না)। নওগাঁ সদর উপজেলার মসরপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মিরি ফকিরের স্ত্রী তিনি। বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই। রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়িঘরে বসবাস করেন। আলোর অভাবে ঘর থাকে অন্ধকারময়। মশা, মাছি ও পোকামাকড়ের সঙ্গে তাঁর বসবাস। তাঁর ডান হাত ও ডান পা প্রায় অচল। এ জন্য অসহায় ও শীতার্ত ময়নার প্রাকৃতিক কাজকর্ম বিছানাতেই সারতে হয়। ঘরে কোনো খাবার না থাকায় সবসময় তিনি ক্ষুধার তাড়নায় ভোগেন। রাস্তায় পথচারীদের শব্দ পেলেই ‘দে, দে, দে, দে…হামাক অ্যানা ভাত দে’ বলে চিৎকার করে বেড়ার ফাঁক দিয়ে সচল বাঁ হাতটি বাড়িয়ে দেন। সরকারি ও বেসরকারি সব প্রকার সহায়তা থেকে বঞ্চিত প্রতিবন্ধী ময়না। এত বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর দিকে কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তার দৃষ্টি পড়েনি।

এলাকাবাসী জানায়, মিরি ফকির ভিক্ষা করতে গিয়ে বংশ পরিচয়হীন কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন এক কিশোরীকে ঘরে নিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে বিয়ে করে নাম রাখেন মাহমুদা বেওয়া (ময়না)। প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের এক খণ্ড জমিতে তালপাতার তৈরি ছোট্ট ঘরে বসবাস করতেন তাঁরা। ভিক্ষা করে খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে চলছিল ময়না-মিরি ফকিরের সংসার। প্রায় ২৫ বছর আগে ভিক্ষুক স্বামী মিরি মারা গেছেন। এরপর থেকে একাই কখনো নওগাঁর বালুডাঙ্গা আবার কখনো নওহাটা বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছিলেন। তাঁর এই কষ্টের কথা ভেবে প্রতিবেশীরা সবাই মিলে পুনরায় তাঁকে তাঁর স্বামীর ঠিকানায় নিয়ে আসে। তাঁর জন্য সরকারি কোনো সাহায্য জোটেনি।

প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বৃদ্ধার বিষয়টি ভাবতেও কষ্ট লাগে। এই ঠাণ্ডার মধ্যে আলো-বাতি ছাড়া অচল হাত-পা নিয়ে একটি মানুষ আর কত দিন বাঁচতে পারে! সরকারি কোনো জায়গায় অথবা বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে গেলে সে হয়তো বাঁচত। তার এই অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগে।’

অসহায় ময়নাকে দেখাশোনার কাজে স্বেচ্ছায় নিয়োজিত প্রতিবেশী সাহারা বানু বলেন, ‘হামি মানসের বাড়িত কাম করে খাই। আশপাশের লোকেরা প্রতিদিন তাকে খাবার দেয়।’

প্রতিবেশী ডা. মোহাব্বত আলী বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে ময়না স্ট্রোক করেছিল। আমি আমার ক্লিনিকে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিস, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের কাছে গত দুই বছর ঘুরেছি। কিন্তু একটা কম্বল দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারেনি তারা।’

হাপানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফসার আলী বলেন, ‘আমি ওই বৃদ্ধাকে চিনি। ২০-২৫ বছর আগে তার ভিক্ষুক স্বামী মারা গেছে। একসময় তারা দুজনেই ভিক্ষা করে চলত। এখনতো সে পঙ্গু, বিছানা থেকেই উঠতে পারে না। কিছুদিন আগে তাকে একটা কম্বল দিয়েছি। তবে তার কোনো অভিভাবক নেই। থাকলে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে হয়তো তার নামে একটা কার্ড করে দিতাম।’

 

সুত্র কালের কন্ঠ

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন










© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana