বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ০৮:২১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কটুক্তির প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন কাউখালী গাঁজা সহ এক ঔষধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার মারা গেছেন ছারছীনার পীর কাউখালীতে বিআরডিবি অফিসের জনবল সংকট, কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ কাউখালীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ বালু বোঝাই বাল্ক‌হেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভে‌ঙে খা‌লে এক বছরেও পুণ:নির্মাণ হয়নি নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ
পঙ্গপাল দেশে যে বিপদ ডেকে আনতে পারে

পঙ্গপাল দেশে যে বিপদ ডেকে আনতে পারে

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফে নুতন ধরণের যে ছোট পোকাগুলো দেখা গেছে, সেগুলো পঙ্গপাল কি-না তা খতিয়ে দেখবে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে এগুলো পঙ্গপাল হলে তা ফসলের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পোকাগুলোর নমুনা পরীক্ষা করার আগে এগুলোকে পঙ্গপাল বলে নিশ্চিত করতে রাজি নন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “এখনো আমরা নিশ্চিত না যে এই পোকা কোন প্রজাতির। গবেষণাগারে পরীক্ষা না করে এই পোকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে না।” তবে এই পোকা গাছপালা খেয়ে নষ্ট করায় এটিকে ক্ষতিকর মনে করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা। পোকা ছড়িয়ে পড়া রোধে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশে পঙ্গপালের আক্রমণ ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া ও ইথিওপিয়ায় ফসলের ক্ষেতে পঙ্গপালের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বন্দুক, টিয়ারগ্যাস এবং সাইরেন।

এরপর পঙ্গপালের হামলার মুখে পড়ে পাকিস্তান ও ভারত। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক এজেডএম ছাব্বির ইবনে জাহান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলন, পঙ্গপালের আক্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা এবং প্রস্তুতি রাখার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পঙ্গপাল কী ধরণের ক্ষতি সাধন করতে পারে? আর পঙ্গপাল একটি দেশের জন্য কী ধরণের বিপদ ডেকে আনতে পারে?

যেভাবে ফসল নষ্ট করে পঙ্গপাল
পঙ্গপাল এক ধরণের ঘাসফড়িং জাতীয় পতঙ্গ। ডিম থেকে বের হয়ে পরিপূর্ণ একটি পতঙ্গে পরিণত হতে এর তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। পূর্ণবয়স্ক পতঙ্গে পরিণত হওয়ার আগে পর্যন্ত এর পাখা থাকে না – কাজেই এটি তখন উড়তে পারে নাম বরং এটি লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হওয়ার পর এটি রঙ বদলায়, অত্যন্ত দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং বিশাল ঝাঁক তৈরি করে।

একেকটি ঝাঁকে এক হাজার কোটি পর্যন্ত পোকা থাকতে পারে এবং দিনে ২০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে এরা। তাদের যাত্রা পথে খাওয়ার উপযোগী সব ধরণের ফসল, গাছপালা ধ্বংস করে দিয়ে যায় তারা। একটি এলাকায় তাদের খাবার শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই দলবেঁধে সেখান থেকে চলে যায় তারা।

বাতাসের গতিপথ যেদিকে থাকে, পঙ্গপাল সেদিকে অগ্রসর হয়। কাজেই তারা সবসময়ই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে যায় – এমন এলাকায় যেখানে বৃষ্টি হয়, অর্থাৎ শস্য উৎপাদনের জন্য আদর্শ জায়গা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা’র তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকৃতির পঙ্গপালের ঝাঁক যে পরিমাণ ফসল ধ্বংস করতে পারে, তা দিয়ে আড়াই হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো সম্ভব।

পঙ্গপাল তাড়াতে গুলি, টিয়ারগ্যাস, সাইরেন
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পঙ্গপালের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিম আফ্রিকায় ২৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের শস্য নষ্ট হয়েছিল। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পঙ্গপাল নিজের ওজনের সমান (২ গ্রাম) শস্য একদিনে খেয়ে শেষ করতে পারে। এক বর্গ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী পঙ্গপাল যে পরিমাণ ফসল নষ্ট করে, তা দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো যায় বলে বলছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

এক ঝাঁক পঙ্গপাল শত শত টন শস্য একদিনে খেয়ে শেষ করতে পারে। পতঙ্গ বিজ্ঞানের অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, “ধান, গম, ভুট্টার মত দানাজাতীয় খাবারের ওপর বাংলাদেশ নির্ভরশীল। এটি যদি বিধ্বংসী পঙ্গপাল হয়ে থাকে, তাহলে সে সব শস্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।” এসব শস্য ছাড়াও বহুভোজী এই পোকা অন্যান্য সবজি ও ফলেরও ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে।

তবে বংশবিস্তার করতে এবং টিকে থাকতে এই পোকার অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ড. আমিন বলেন, “সাধারণত গ্রীষ্মকালে, অর্থাৎ মে ও জুন মাসে, এই পোকার বংশবিস্তারের আদর্শ সময়। সে সময় তারা তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ডিম থেকে পূর্নাঙ্গ রূপে যেতে পারে।”

কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এই পোকা?
মরুভূমির পঙ্গপাল সাধারণত পশ্চিম আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যকার শুষ্ক অঞ্চলের ৩০টি দেশে দেখা যায়। জাতিসংঘ বলছে, বছর দুয়েক আগে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে পঙ্গপালের তিনটি প্রজন্মের বংশবৃদ্ধি নজরদারির মধ্যে রাখা সম্ভব হয়নি।

২০১৯ সালের শুরুর দিকে ইয়েমেন, সৌদি আরব ও ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল যায়। সেখান থেকে বংশবৃদ্ধি করে পূর্ব আফ্রিকার দিকে যায় তারা। গত বছরের শেষদিকে এরিত্রিয়া, জিবুতি ও কেনিয়ায় দেখা যায় এই পোকা।

মিশর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে পঙ্গপালের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। তবে টেকনাফে যে পোকাটি পাওয়া গেছে, সেটির বৈশিষ্ট্য দেখে আফ্রিকায় আঘাত হানা ভয়াবহ পঙ্গপাল বলে মনে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

একই মন্তব্য করেছেন পতঙ্গবিজ্ঞানী রুহুল আমিনও। টেকনাফের স্থানীয়রা সপ্তাহ খানেক যাবত এই ধরণের পোকা দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!