রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কাউখালীতে জোয়ারের পানিতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত শোক দিবস পালনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিলেন মিরাজুল ইসলাম কোন সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দায়িত্ব নেয়নি-মহিউদ্দিন মহারাজ ইন্দুরকানীতে নদীর চর থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার ইন্দুরকানীতে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু সুমাইয়ার পাশে দাঁড়ালো চন্ডিপুর ইউনিয়ন মানবিক কল্যান পরিষদ নাজিরপুরে ভাইয়ের পরিবারকে মিথ্যা মামলা দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভূগী মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা সৎ মেয়েকে নিয়ে পালানো যুবক গ্রেপ্তার, প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি স্ত্রীর কাউখালীতে পাইপগানসহ দুইজন গ্রেফতার মঠবাড়িয়ায় পরকিয়ার জেরে বিউটিশিয়ান নারী খুন : ঘাতক স্বামী ও স্কুল শিক্ষিকা গ্রেপ্তার সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানিই ভরসা: প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা : চলেই গেলেন র‍্যাব কর্মকর্তা ইসমাইল ভান্ডারিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া মনিংসান লঞ্চের ধাক্কায় বাল্কহেড ডুবে ২ শ্রমিক নিখোঁজ ভান্ডারিয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত কৃষি কর্মকর্তা কর্তৃক সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কাউখালীতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন কাউখালীতে সংসারের হাল ধরতে বাবার পেশা খেয়া ঘাটের মাঝি হলেন স্কুল ছাত্রী মুনিরা ভান্ডারিয়ায় টাস্কফোর্স কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের দুর্যোগ সামগ্রী বিতরণ ভান্ডারিয়ায় ফুটপাতের অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান
করোনার ঝুঁকিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে বাড়ছে রোগী সেবা পেয়ে খুশী স্থানীয়রা

করোনার ঝুঁকিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে বাড়ছে রোগী সেবা পেয়ে খুশী স্থানীয়রা

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট:করোনা ভাইরাস দুর্যোগের সময় ঝুঁকির মুহূর্তে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন বাগেরহাটের ৯ উপজেলায় চিকিৎসক ও কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা। অন্যান্য সময়ের থেকে ক্লিনিকে রোগীও বেড়েছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে না গিয়ে বাড়ির পাশে ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ায় খুশী স্থানীয়রা।

বাগেরহাট জেলায় ২০৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রতি ক্লিনিকে নিরাপত্তা সামগ্রী পিপিই মাস্ক, সেনিটাইজার, হ্যান্ডগ্লোভস দেওয়া হয়েছে। রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশমতে সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়দের।

গাবতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. ফারুক হোসেন হাওলাদার বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ক্রমে আমরা নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাঝে তৃনমূল জনসাধারণকে নিয়মিত সেবা প্রদান করছি।প্রতিদিন যেসব রোগীরা সেবা নিতে আসছেন, তারা অধিকাংশই মৌসুমি জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথায় আক্রান্ত। করোনা সংক্রমণের উপসর্গের সঙ্গে অনেকটা মিল থাকায় কোন করোনা আক্রান্ত রোগী হলেও তা নির্ধারণ করা কঠিন কাজ। ক্লিনিকে আগত রোগীদের নিকট থেকে তাদের শারীরিক সমস্যার তথ্য জেনে সিএমইডি এজেন্ট অ্যাপস ব্যাবহার করে করোনার সম্ভাবনা আছে কিনা তা নির্ধারণ করে তাদেরকে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করে থাকি। সুরক্ষা সামগ্রী ব্যাবহারের মাধ্যমে যতটা সম্ভব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সেবা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আগের থেকে রোগীও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরো বলেন, করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রণোদনা ও স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি অনুপ্রেরণার পাশাপাশি এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সেই সাথে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সিএইচসিপি দের ও এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমি কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই।
বিশারিঘাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রেবা রানি বলেন, আমাদেরকে রোগীর খুব কাছাকাছি থেকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশীর ভাগ রোগী জ্বর সর্দি কাশি গলা ব্যাথা নিয়ে আসেন। অনেক রোগীর উপসর্গ জেনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রেফার করতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সহকারী এবং প্রোভাইডারদের রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।অথচ কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীর উপস্থিতি বেড়েছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা গৃহবধু সাথী ইসলাম বলেন, করোনার কারণে হাসপাতালে যেতে পারি না। ঠান্ডা গরমের জন্য জ্বর, মাথা ব্যাথা নিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে আসছি।এখানে ডাক্তার দেখালাম। পেশার মাপল, ওজন মাপল। পরে ঔষধ দিল, চলে আসলাম। গ্রামের অনেকেই ওখানে যায়।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেছেন,. উপজেলার ৫১ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিকে করোনা সংক্রমনের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করা হয়েছে। শরীর থেকে নেওয়ার ওপর একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে সিএইচসিপিদের। করোনা ভাইরাসের এই সংকটময় মুহূর্তে সদর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলি নিরবিচ্ছিন্নভাবে তৃনমূল মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। সিএইচসিপিদের অগ্রনী সাহসী ভূমিকার জন্য যা সম্ভব হচ্ছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, করোনাকালে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনার আগের মাসে যেখানে দেড় লাখ রোগী সেবা নিতো, সেখানে করোনা আতঙ্কে এক লাখে নেমে আসে। আমাদের সচেতনতার ও বিভিন্ন পদক্ষেপে কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২ হাজার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সিএইচসিপিদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি কমিউনিটি ক্লিনিকের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন










© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana