রবিবার, ১৪ Jul ২০২৪, ১১:০২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ ভাণ্ডারিয়ায় পিকআপের ধাক্কায় ২ পথচারী নিহত, আহত ৪ সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে এলাকার শতভাগ উন্নয়ন করা সম্ভব- মহিউদ্দিন মহারাজ এমপি ভান্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী বায়জিদ কাউখালীতে মাদ্রাসার ছাত্রের আত্মহত্যা কাজল সভাপতি- নুর উদ্দিন সম্পাদক পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ভাণ্ডারিয়ায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
শারীরিক সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে হত্যা

শারীরিক সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে হত্যা

ব্যবসায়ী সাইফুল হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা বলছে, স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার কারণে ও আত্মরক্ষার্থে খুন করা হয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে।

অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসে নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে টাকা আদায় করাই ছিল এই দম্পতির পেশা। টাকা আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন করা হয় সাইফুলকে।

রাজধানীর ভাটারায় গত জুনের শেষের দিকে ঘটে যাওয়া সাইফুল হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের গুলশান জোনাল টিম। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন- আপেল আহমেদ (২৭), শান্তা ইসলাম ওরফে আলভী (২০) ও আব্দুর রাকিব চৌধুরী (২২)। গত রবিবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ভাটারা থানার বাঁশতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

সাইফুল হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গোয়েন্দা গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েন বলেন, গত ২৪ জুন নিহত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিনারা পারভীন তার স্বামী নিখোঁজ সংক্রান্তে হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন যে, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম দুপুর অনুমানিক ২টার দিকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেন নাই।

ওই জিডি ও গাড়ির সূত্র ধরে ২৬ জুন ভাটারা থানা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ভাটারা থানার মাদানী এভিনিউস্থ ১০০ ফিট থেকে উক্ত গাড়িটি উদ্ধার করে। গাড়ি উদ্ধারের পরের দিন অর্থাৎ ২৭ জুন ভাটারা থানার সাঈদ নগর পূর্ব পাড়া মসজিদ গলির আনোয়ার হোসেনের বাসার ২য় তলা থেকে সাইফুল ইসলামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

গোয়েন্দা এই কর্মকর্তা বলেন, উক্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগের গুলশান জোনাল টিমও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ভাটারা থানার বাঁশতলা ক্যাম্বব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের সম্মুখস্থ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে এডিসি গোলাম সাকলায়েন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মো. আপেল আহমেদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। সে ফুটপাতে কখনো ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করে, কখনো ভাসমান রেস্টুরেন্ট, কখনো ফলমূল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। করোনার কারণে আয়ের পথ বন্ধ হলে সে আর্থিক সংকটে পড়ে।

ভিকটিম সাইফুলের কাছে টাকা পেত আপেলের বন্ধু রাফি। রাফি’র পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য রাফির সঙ্গে পরিকল্পনা করে আপেলের স্ত্রী শান্তা ইসলাম ফোনে শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে সাঈদ নগর তাদের বাসায় সাইফুলকে নিয়ে আটকে রাখে। প্রথমে ভিকটিমকে বিবস্ত্র করে চাকু’র উল্টা দিক দিয়ে মারধর করে এবং টাকা চাইতে থাকে।

এদিকে পূর্বেই আপেল স্থানীয় নোমান ও হাসানকে ডেকে এনেছিল। পাশাপাশি আপেলের দুসর্ম্পকীয় ফুফাতো ভাই রাকিবকেও ডেকে এনেছিল ঘটনাস্থলে। একপর্যায়ে নোমান ও হাসান চলে যায়। কোনো এক সুযোগে ভিকটিম পালানোর চেষ্টাকালে রাকিব প্রথমে টেনে ধরে এবং আপেল উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ভিকটিম সাইফুল ইসলামকে হত্যা করে। এ সময় আপেলের স্ত্রী সাইফুলের মুখ চেপে ধরে রেখেছিল। পরবর্তীতে সাইফুলের মুখে ওড়না গুজে দিয়ে গলা কাটে। নিহত সাইফুল স্বাস্থ্যবান ও লম্বা হওয়ায় তার লাশটিকে গুম করতে না পেরে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!