বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কটুক্তির প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন কাউখালী গাঁজা সহ এক ঔষধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার মারা গেছেন ছারছীনার পীর কাউখালীতে বিআরডিবি অফিসের জনবল সংকট, কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ কাউখালীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ বালু বোঝাই বাল্ক‌হেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভে‌ঙে খা‌লে এক বছরেও পুণ:নির্মাণ হয়নি নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নিম্ন শ্রেণির সড়ক ভোগান্তির যেন অন্ত নেই!!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নিম্ন শ্রেণির সড়ক ভোগান্তির যেন অন্ত নেই!!

জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এই পৌরসভায় রয়েছে নিম্ন শ্রেণির সড়ক।নিজের চোখে না দেখলে তা বিশ্বাস করার মত নয়। ভোগান্তির যেন অন্ত নেই!!
পানিতে হাঁসের জলকেলি দেখে যে কারো মনে হতে পারে এটি কোনো নালা বা খালের চিত্র। কিন্তু, বাস্তবে এটি ভাঙা সড়কে জমে থাকা পানির চিত্র। আর এমন গর্ত ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি ১৫০ বছরের পুরনো প্রথম শ্রেণির ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার। ৩০ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগা রাস্তাটির ইটের সলিং এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের চন্ডালখিল থেকে গোকর্ণ পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটিতে গত ৩০ বছরে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাটি এতোটাই বেহাল যে, এলাকাবাসীকে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়।

চন্ডালখিল গ্রামের বাসিন্দা নাছির মিয়া বলেন, ‘যান চলাচলের অনুপযোগী সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল এরশাদ সরকারের আমলে। এরপর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিতে ইটের সলিং দেওয়া হয়। বছর খানেকের মধ্যে ওই সলিং ক্ষত-বিক্ষত হয়ে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।’

অথচ প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বিধানে বলা আছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এর নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের চিত্র যেন একেবারেই ভিন্ন। ওই ওয়ার্ডের চন্ডালখিল, আমিনপুর ও ছোট গোকর্ণ- এই তিন গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রথম শ্রেণিভুক্ত পৌরসভায় বাস করেও নিজের শহরে যাতায়ত করেন পায়ে হেঁটে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটিতে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ ও গর্তে ভরে আছে। গর্ত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো ধরণের যানবাহন চলাচল অসম্ভব। সড়কের গর্তে জমে থাকা পানিতে হাঁসের জলকেলিও দেখা গেছে।

চন্ডালখিল সিরাজবাগ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ওবায়দুল্লাহ আশরাফ বলেন, ‘ওই গ্রামে থাকা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্ডারগার্টেন এবং দুটি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৭০ জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী আশপাশের গ্রামের উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে পায়ে হেঁটে। ফলে এই সড়ক নিয়ে দুঃখের শেষ নেই এখানকার বাসিন্দাদের।’

একই গ্রামের মন মিয়া বলেন, ‘যদিও আমরা শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে বাস করি, তবে সড়কের এমন বেহাল দশা দেখে মনে হয় আমরা কোনো অজপাড়া গ্রামে বাস করি।’

জেলা শহরের মধ্যে থাকা এমন একটি রাস্তা যদি সংস্কারের অগ্রাধিকার না পায়, তাহলে পৌরসভায় বাস করে কী লাভ? প্রশ্ন করেন তিনি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলে বারবার সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দেন প্রার্থীরা। কিন্তু, নির্বাচনের পরে আর কোনো জনপ্রতিনিধি খবরও নেয় না তাদের। গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে তাকে শহরের হাসপাতালে নিতেও বেগ পেতে হয়। বর্ষা এলে এই দুর্ভোগের পরিমান আরও বেড়ে যায় ।

এ সড়কটি সহসা নির্মাণের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. কাউসার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে সড়কটি মেরামতের কোনো আর্থিক সক্ষমতা নেই পৌরসভার। এ নিয়ে মাসিক সভায় আলোচনা করা হবে।’সরকারী ফান্ড না আসা পর্যন্ত সড়কের কাজ করা আপাতত সম্ভব হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবীর বলেন, ‘সরকারী ফান্ড না আসা পর্যন্ত সড়কের কাজ করা আপাতত সম্ভব হচ্ছেনা।কারন পৌরসভার কাছে এখন এত টাকা নেই। সরকারি ফান্ড পেলেএবং মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হলে প্রকৌশলীদের দিয়ে সড়কটির প্রাক্কলন তৈরি করবো। এরপর সড়কটি তৈরীর জন্য দরপত্র আহবান করা হবে।’সড়কটি সংস্কার হবে বলে তিনি জানান। তবে তা হতে একটু সময় লাগতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!