বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০২৪, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কটুক্তির প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন কাউখালী গাঁজা সহ এক ঔষধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার মারা গেছেন ছারছীনার পীর কাউখালীতে বিআরডিবি অফিসের জনবল সংকট, কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ কাউখালীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ বালু বোঝাই বাল্ক‌হেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভে‌ঙে খা‌লে এক বছরেও পুণ:নির্মাণ হয়নি নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যার প্রাদুভার্ব : নিম্নাঞ্চল প্লাবিত-তলিয়েছে বেড়িবাঁধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যার প্রাদুভার্ব : নিম্নাঞ্চল প্লাবিত-তলিয়েছে বেড়িবাঁধ

জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যার প্রাদুভার্ব দেখা দিয়েছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, কয়েক স্থানে তলিয়েছে বেড়িবাঁধ। মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ পয়েন্টে ও তিতাস নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার নবীনগর, নাসিরনগর ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

মেঘনার পানি বৃদ্ধিতে হুমকিতে আশুগঞ্জ শহর। সতর্কাবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিতাসের পানি বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর রক্ষা বাঁধ তলিয়ে গেছে। জেলা সরাইল উপজেলা এলাকার সরাইল-অরুয়াইল সড়ক পানির নিচে।তাছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট, আউশ ধান, ফসলী জমি, বসতভিটা। পানিবন্দি হয়ে বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উচু স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতি মুহূর্তেই তলাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রঞ্জন কুমার দাস জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর চারটি পয়েন্টে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে তিতাস নদীর নবীনগর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭৭ সেন্টিমিটার, সরাইলের আজবপুর পয়েন্টে ৫৪ সেন্টিমিটার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কুরুলিয়া পয়েন্টে ৪৭সেন্টিমিটার এবং গোকর্ণঘাট পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মেঘনা নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে আছে। প্রতিদিনই মেঘনায় অন্তত ৭-১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেঘনা, তিতাসের পানি বৃদ্ধিতে জেলার নবীনগর উপজেলার নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে হাওড়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও আখাউড়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচে ও গঙ্গাসাগর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে।

জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধলেশ্বরী এবং লঙ্গন নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর, পুকুর, রাস্তা-ঘাট, ফসলী জমি, সবজি বাগান তলিয়ে গেছে। সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, মৌলভীবাজারের মনু এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধির চাপ পড়েছে নাসিরনগর উপজেলার ওই দু’টি নদীতে। নিচু এলাকার অনেকেই বসতভিটা ছেড়ে চলে গেছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। উপজেলাার গোকর্ণ ইউনিয়নের প্রায় ৭০টি পরিবার বসভিটা ছেড়েছে। বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি, দু’টি রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে চলাচল। তাছাড়াও উপজেলার চাতলপাড়, ভলাকুট, গোয়ালনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ ২৭৫ হেক্টর আউশ, ৭৫ হেক্টর বোনা আমনের তালিকা করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কিছু এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ ১৩টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য বি.এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা নির্ধারণ করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন । যে কোনো দুর্যোগে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে আছি।’ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থরা মনোবল না হারিয়ে ধৈর্য্যরে সাথে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে জনগণের প্রতি আহবান জানান।

এদিকে চলমান অতিবর্ষনে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের সেন্দ ভূমি অফিস হুমকির মুখে পড়েছে। ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া সরেজমিনে তা পরিদর্শন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, ‘তিতাস নদীর পানি বেড়ে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নগদ টাকা এবং চালসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ আছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!