বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কাউখালীতে নাশকতায় মামলায় জামায়েত সেক্রেটারিসহ ৪জন গ্রেফতার কটুক্তির প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন কাউখালী গাঁজা সহ এক ঔষধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার মারা গেছেন ছারছীনার পীর কাউখালীতে বিআরডিবি অফিসের জনবল সংকট, কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ কাউখালীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ বালু বোঝাই বাল্ক‌হেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভে‌ঙে খা‌লে এক বছরেও পুণ:নির্মাণ হয়নি নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গ্রামবাসীর চাঁদায় ড্রেন নির্মাণ হলেও চেয়ারম্যান দেখালেন সরকারি প্রকল্প

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গ্রামবাসীর চাঁদায় ড্রেন নির্মাণ হলেও চেয়ারম্যান দেখালেন সরকারি প্রকল্প

জহির সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতাঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গ্রামবাসীর চাঁদায় ড্রেন নির্মাণ হলেও চেয়ারম্যান দেখালেন সরকারি প্রকল্প।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল কালীকচ্ছ গ্রামের জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসী নিজেরা চাঁদা তুলে ড্রেন নির্মাণ করেন। অথচ সেই ড্রেন তৈরি প্রকল্প দেখিয়ে উপজেলা প্রশাসন ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা হজম করেছে। এলাকাবাসী এই কথা জানালেও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তা মানতে নারাজ। এই ড্রেনের কাজ সহ বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি, কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ, সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত রাস্তা ও দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। উপজেলার সৈয়দ টুলার মোশারফ উদ্দিন ও কুট্টাপাড়ার আবুল কালাম আজাদ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্প কাগজে–কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে দরপত্র ও পিআইসি কমিটির মাধ্যমে নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রফিক উদ্দিন। তিনি নিজ বাড়ির জন্য উপজেলা ডাক বাংলোর পশ্চিম পাশ দিয়ে সরকারি জায়গার ওপর দিয়ে সরকারি খরচে ২০-২৫ ফুট প্রশস্তের রাস্তা এবং রাস্তার পশ্চিম পাশে বিনা প্রয়োজনে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এডিপির প্রকল্পগুলো দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদার পেলেও চেয়ারম্যানের ভাই-ভাতিজা ও সহযোগীরা প্রভাব বিস্তার করে কাজ নিয়ে যান। করোনার এই সময়ে উপজেলার নানা শ্রেণির মানুষের জন্য প্রথম দফায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কিনতে ৮০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু ইউএনওকে হাত করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান।

লিখিত অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় উপজেলার হালুয়াপাড়া সেতু থেকে আরিফাইল রাস্তার সদর স্কুলসংলগ্ন স্থানে রাস্তার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নলকূপ স্থাপন, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শৌচাগারের চাকতি (রিং স্ল্যাব) সরবরাহ, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় পাকশিমুল লম্বা ভিটা মসজিদের সামনে ঘাটলা নির্মাণ, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় কালীকচ্ছ মধ্য রাস্তার শাহজাহানের বাড়ির সামনে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ, ২ লাখ টাকায় অরুয়াইল দক্ষিণ বাজার বিএডিসি–সংলগ্ন চেত্রা নদী ও তিতাস নদের পাড় পর্যন্ত গাইড ওয়াল ও র‌্যাম্প নির্মাণ, ২ লাখ টাকায় অরুয়াইল বাজারের দক্ষিণ পাশে জনগণের ওঠা–নামার জন্য সিড়িসহ ঘাটলা নির্মাণ, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় উপজেলার লোপাড়া তিতাস রোডের বারেক মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে প্রতিরক্ষা দেয়ালের অবশিষ্ট অংশ নির্মাণ এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চুন্টা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ প্রকল্পের ও কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। চেয়ারম্যান এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া দরপত্র প্রকল্প-১–এর প্যাকেজ-৬ প্রকল্প কালীকচ্ছ নন্দীপাড়া তকদির চেয়ারম্যানের পুকুরে রাস্তার পাশে রিটার্নিং দেয়াল নির্মাণেরও কোনো অস্তিত্ব নেই।

অভিযোগের পর সরেজজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিকচ্ছ তকদীর চেয়ারম্যানের পুকুরের রিটার্নিং দেওয়ালের কোন অস্তিত্ব মেলেনি। স্থানীয়রা জানায়, অভিযোগের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন মালামাল নিয়ে আসেন কাজ করতে, তবে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে তারা ফিরে যান।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন বলেন, ‘এডিপির প্রকল্প দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার কাজ করে থাকেন। আমি কীভাবে টাকা আত্মসাৎ করব? আমি কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত না। আমি চাই, জেলা প্রশাসক স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি শতভাগ তদন্ত করুক। যারা অভিযোগ করেছে, তারা আমার শত্রু না, বন্ধু মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। ঠিকাদার কাজ করছেন। আর তাঁর বাড়ির রাস্তা পাকা নয়, মাটির কাঁচা রাস্তা। দেয়ালটা হলো বাসভবনের দেয়াল।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াছমীন বলেন, অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম মোসা বলেন, যাচাই-বাছাই করে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দিয়েছেন। যদি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিনে বাস্তবায়ন হতে দেখেছেন তিনি। সবগুলো ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!