বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০২৪, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কটুক্তির প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন কাউখালী গাঁজা সহ এক ঔষধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার মারা গেছেন ছারছীনার পীর কাউখালীতে বিআরডিবি অফিসের জনবল সংকট, কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ কাউখালীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ বালু বোঝাই বাল্ক‌হেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভে‌ঙে খা‌লে এক বছরেও পুণ:নির্মাণ হয়নি নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ
সিনহার ক্যামেরা ল্যাপটপ কোথায়?

সিনহার ক্যামেরা ল্যাপটপ কোথায়?

কক্সবাজারের টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের পরামর্শক ও সহযোগীদের খোঁজা হচ্ছে। ঘটনার পরবর্তী সময়ে ওসি প্রদীপ যাদের সহায়তা নিতে ফোন করেছিলেন, তাদের তালিকা এরই মধ্যে প্রস্তুত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যেককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অন্যদিকে একটি হত্যার ঘটনায় করা দুটি মামলায় তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। মেজর (অব.) সিনহার ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ও শুটিংয়ে ব্যবহৃত ক্যামেরার খোঁজও মিলছে না। এ ছাড়া ওই ঘটনার অংশ হিসেবে দায়ের করা পুলিশ বাদী তিনটি মামলার তদন্তভার চাইছে র‌্যাব। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বাকি মামলাগুলোর তদন্তভার নিতে গতকালই আদালতে আবেদন করেছেন র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে গতকাল মেজর সিনহার সহযাত্রী শিপ্রা দেবনাথ জামিন পেয়েছেন। এছাড়া জেলগেটে গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। আজ রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে অন্যতম অভিযুক্ত প্রদীপ কুমার দাশসহ তিন পুলিশ সদস্যকে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, তথ্য রয়েছে বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অপকর্ম ঢাকতে পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এ বিষয়টা র‌্যাবের নজরে আসার পর পরামর্শকদের খোঁজে মাঠে নেমেছে।

তিনি বলেন, ‘রবিবার জেলগেটে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী এবং উপ-পরিদর্শক নন্দলাল রক্ষিতকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

জানা যায়, মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ হত্যার অন্যতম অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ বিভিন্ন অপকর্ম করে তা চাপা দেওয়ার জন্য নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। প্রদীপের এ তালিকায় পুলিশের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রয়েছেন আইনজীবীসহ কয়েকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিজের অপকর্ম ঢাকতে ভুঁইফোড় অনলাইন ও ফেসবুককেন্দ্রিক কিছু কথিত গণমাধ্যমকর্মীকে ব্যবহার করতেন ওসি প্রদীপ।

সর্বশেষ মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদকে গুলি করে হত্যা করার পর আল্লাহ বক্স নামের এক আইনজীবীকে ফোন করেন তিনি। এরই মধ্যে ওই ফাঁস হওয়া ফোনালাপে প্রদীপ মহাবিপদে পড়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির কাছে আইনি জটিলতা এড়াতে সহায়তা কামনা করেন। ওই ফোনালাপে মেজর (অব.) সিনহাকে গুলির পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করে আইনি ঝামেলা থেকে পরিত্রাণ পেতে পরামর্শ কামনা করেন প্রদীপ। এ সময় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি নানা ধারা উল্লেখ করে প্রদীপকে আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষার পথ বাতলে দেন।

একাধিক সূত্র বলছে, মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে একটি তদন্ত করছে র‌্যাব। পুলিশ বাদী মামলাটির তদন্ত এখনো পুলিশের কাছেই রয়েছে। থানার সিসিটিভি রেকর্ডও তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা উচিত। তবে এর বাইরে মেজর সিনহার ল্যাপটপ ও ভিডিও ক্যামেরার হদিস না পাওয়ায় অনেক তথ্য গায়েব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কয়েকজন অপরাধবিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, একটি হত্যার ঘটনায় দুটি মামলার কোনো নজির নেই। আবার তদন্ত সংস্থাও দুটি। এটা রীতিমতো হাস্যকর। এতে সুষ্ঠু তদন্ত নিয়েও অনেক প্রশ্ন থাকবে। সূত্র বলছে, সিনহাকে খুন করার পর গ্রেফতার প্রদীপ কাদের কাছে ফোন করেছিলেন এর তালিকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কারা তৎপরতা দেখিয়েছেন তাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে শুটিংয়ে ব্যবহৃত ভিডিও ক্যামেরা এবং মেজর সিনহার ব্যবহৃত ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার লোকজন প্রদীপের পরামর্শক হিসেবে কাজ করতেন বলে তথ্য রয়েছে। এসব পরামর্শকের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

চাঁদা না পেয়ে একই পরিবারের তিনজনকে খুন করেন প্রদীপ : একে একে বের হয়ে আসছে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের কুকীর্তি। চাহিদামতো মাসোহারা না দেওয়ায় রোহিঙ্গা অপবাদ দিয়ে এক আনসার সদস্যসহ একই পরিবারের তিন সদস্য হত্যা করেন প্রদীপ ও তার অনুসারী পুলিশ সদস্যরা। তিনজনকে খুনের পর থেমে থাকেনি প্রদীপের তা-ব। এরপর অভিযানের নামে ওই পরিবারে চালানো হয় লুটপাট। অগ্নিসংযোগ করা হয় তাদের ঘরে। জীবন বাঁচাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে বেড়িয়েছেন মাসের পর মাস।
নিহত আনসার সদস্য নুরুল আলমের ছোট ভাই শাহ আলম বলেন, ‘স্থানীয় থানার সোর্স গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে চুক্তি করে আমার দুই ভাই ও ভাগ্নেকে বন্দুকযুদ্ধের নাম করে হত্যা করেন ওসি প্রদীপ। এরপর তাদের রোহিঙ্গা নাগরিক ও ডাকাত দলের সদস্য বলে অপবাদ দেন। অথচ তাদের কারও বিরুদ্ধে ডাকাতি কিংবা মাদকের মামলা ছিল না। তিনজনকে হত্যার পর আমাদের ঘনিষ্ঠ আরও ২৬ জনকে দুই মামলার আসামি করেন প্রদীপ। এরপর আমাদের পরিবারে নেমে আসে প্রদীপ ও তার অনুসারীদের নারকীয় যন্ত্রণা।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ক্রসফায়ার দেওয়ার আগে এসআই মশিউর রহমানকে পাঠান আমাদের কাছে প্রদীপ। জীবন রক্ষা করতে চাইলে পাঁচ লাখ টাকা করে মাসোহারা দাবি করেন তারা। তাদের চাহিদামতো মাসোহারা না দেওয়ায় তিনজনকে হত্যা করা হয়।’

জানা যায়, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার পুলিশের কথিত সোর্স গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে আনসার সদস্য মো. নুরুল আলমের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েকবার সংঘাতের ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে থানায় মামলাও হয় উভয় পক্ষ থেকে। থানার সোর্স গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে সখ্য ছিল টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের। এই সম্পর্ককে পুঁজি করে আনসার সদস্য নুরুল আলমকে হত্যার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে ওই সোর্স।

এ বছরের ৬ মে সাহরি খেয়ে মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে আনসার সদস্য নুরুল আলম, তার ভাই সৈয়দ আলম ও কিশোর ভাগ্নে সৈয়দ হোসেন ওরফে মোনাফকে তুলে নিয়ে যান প্রদীপ ও এসআই মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা। পরে তাদের রঙ্গিখালী পশ্চিম গাজীপাড়ার পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ। ওই দুটি মামলায় ২৬ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে আনসার সদস্যের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।

জামিন পেলেন শিপ্রা : মেজর (অব.) সিনহা হত্যার ঘটনায় রামু থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন শিপ্রা দেবনাথ। গতকাল রামুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। ওই ঘটনায় টেকনাফ থানায় একটি ও রামু থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছিল। রামু থানার মামলায় আসামি করা হয়েছিল স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথকে। এই বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থীকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র আইনি সহযোগিতা দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার সদরে যাওয়ার পথে বাহারছড়া পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ি থেকে নামিয়ে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ৫ আগস্ট নয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে র‌্যাব। এর আগে ৩ জুলাই স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিন শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন ইফাত নূর কক্সবাজারে যান। ‘জাস্ট গো’ শিরোনামে মেজর (অব.) সিনহা যে তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ করছিলেন, সেখানে কাজ করছিলেন এই তিন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তাহসিনকে পুলিশ আগেই ছেড়ে দেয়। হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সিফাত এখনো কারাগারে। ৯ দিন কারাগারে থাকার পর গতকাল জামিন পান শিপ্রা দেবনাথ। পুলিশ ১ আগস্ট শিপ্রাকে গ্রেফতার দেখায় এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!