বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কটুক্তির প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন কাউখালী গাঁজা সহ এক ঔষধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার মারা গেছেন ছারছীনার পীর কাউখালীতে বিআরডিবি অফিসের জনবল সংকট, কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ কাউখালীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ বালু বোঝাই বাল্ক‌হেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভে‌ঙে খা‌লে এক বছরেও পুণ:নির্মাণ হয়নি নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ
সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ হবে কবে?

সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ হবে কবে?

সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ হবে কবে?

দেশে অহরহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। বস্তুনিষ্ট সত্য সংবাদ প্রকাশ হলেই সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসে লোমহর্ষক নির্যাতন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা যেন বেড়েই চলেছে বাংলাদেশে৷ আর সে কারণে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরা ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়৷

প্রশ্ন হলো; সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী মারলে বা পেটালে অথবা হত্যা করলে কি হয়.? তারা কি কখনো ন্যায্য বিচার পায়.? তাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা আছে.?
তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা আছে?
রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা কখনো কি তাদের নিরাপত্তার জন্য কখনো কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন? রাষ্ট্রের সহায়ক হিসেবে তারা কাজ করে যায় অথচ তাদের রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি নেই।

২০১২ সালে নিজ বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন সারোয়ার রুনির হত্যার ঘটনার পর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দিয়েছিলেন সে সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। তবে সাড়ে ৬ বছর পার হয়ে গেলেও সে বিচার এখনো পায়নি সাগর-রুনির পরিবার।

২০১৮,২৮ আগস্ট রাতে পাবনায় আনন্দ টিভির পাবনার প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান। কী অপরাধ ছিল সাংবাদিক সুবর্ণার? সাংবাদিক নির্যাতন আর কত দিন? তাইতো সময় এসেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ঘোষিত ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আসুন, সকল ধরনের সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখি।

১৪.০৩.২০২০ কুড়িগ্রামে ‘বিবস্ত্র করে’সাংবাদিক নির্যাতন। সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বানোয়াট অভিযোগে সাজা দেওয়া ঘটনায় জড়িত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।

২১.১১.১৯ সেপ্টেম্বর মোবাইল ট্টাকিং করে রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকার বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে আটক করে টেকনাফে নিয়ে যায়। সেখানে থানা হেফাজতে তিনদিন আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। পানির বদলে প্রস্রাব আর না খাইয়ে চোখে মরিচের গুড়া দিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুচিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত করা হয়েছিল। হাত পায়ের নখ প্লাস দিয়ে টেনে উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। চোখ দুটো অন্ধপ্রায় করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে বের হলে ক্রসফায়ার দেয়া হবে বলেও পরিবারকে ভয় দেখান ওসি প্রদীপ জানিয়েছেন মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা। দুটি শিশুপুত্র নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে মোস্তফার স্ত্রীর। মাথাগোঁজার ঠাই বসতঘর খানা বিক্রি হয়ে গেছে মামলার পরপরই। ঠিকানাবিহীন হয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত কাটছে এখন।

শুনতে কেমন শোনায়! আমাদেরকে একটা কথা বলারও সুযোগ দেয়নি। এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকলো, আমার হাত ভাঙলো, মাথা ফেটে গেল । রক্তারক্তি অবস্থা” এ হচ্ছে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া একজন সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা।

শুনতে যেমনই শোনাক, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের এরকম নির্যাতনের শিকার হওয়া কোন বিরল ঘটনা নয়, বরং এ প্রবণতা বাড়ছে । তার পরেও নানা কারণে আইনের আশ্রয়ও নিতে চান না অনেক সাংবাদিক। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এ পেশার অনেকেই।

তাই সময় এসেছে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন তৈরী করা। সকল সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবী তোলা উচিৎ-সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। প্রয়োজনীয় আইনসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিকার হিসেবে রাষ্ট্রের নিকট প্রস্তাব উপস্থাপন করা। অন্যথায় যুগে যুগে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা মার খেতে থাকবে ও নির্যাতন এবং নিপীড়নের শিকার হবে।

লেখক: সোহাগ আরেফিন, কেন্দ্রীয় সদস্য, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!