বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০২৪, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কটুক্তির প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন কাউখালী গাঁজা সহ এক ঔষধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার মারা গেছেন ছারছীনার পীর কাউখালীতে বিআরডিবি অফিসের জনবল সংকট, কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ কাউখালীতে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ বালু বোঝাই বাল্ক‌হেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভে‌ঙে খা‌লে এক বছরেও পুণ:নির্মাণ হয়নি নাজিরপুরে যে কারনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে ৯ বছরের সাজার জন্য ৩৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্কুল ছাত্রী অপহরণের ৩৩ দিন হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি কাউখালীতে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক পিরোজপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কাউখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখা গেল সাপ কাউখালী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই চিকিৎসক নেই বেড, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরন পিরোজপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অথের্র চেক বিতরণ কাউখালীতে জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, গ্রেপ্তার ৪ নেছারাবাদে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা প্রদান সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়ম-দুর্নীতির  অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়ম-দুর্নীতির  অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মিজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়ম-দুর্নীতির  অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ১২ জন ভুক্তভোগী  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার বিরুদ্ধে।  ।
লিখিত অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ-দুর্নীতির ৪০টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন তারা।

অভিযোগে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে আহাম্মদ হোসেন গত ২৩ আগস্ট জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে সাব রেজিস্ট্রারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে  সুত্রে জানা যায়, দলিলের নকল বা সার্টিফাইড কপি তোলার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ২৭০ টাকা। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সেবা গ্রহীতাকে তার  জন্য  গুণতে হয় দেড় হাজার টাকা। আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ সাব রেজিস্ট্রার মিজাহারুল ইসলামের পকেটে চলে যাচ্ছে।

সাফ কাবলা দলিলের মূল্য এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলেও সরকারি ফি’র বাইরে সেরেস্তাদারের জন্য  আড়াই হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে।

আর যদি দলিলের মূল্য এক লাখ টাকা বা অধিক মূল্য হয়, তাহলে প্রতি লাখে ৩০০ টাকা করে বেশি দিতে হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের হেবা ঘোষণা দলিলের মূল্য যতই হোক না কেনো সরকারি ফি ৬৫০ টাকা। কিন্তু এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তিন হাজার ৩০০ টাকা সেরেস্তা বাবদ ঘুষ দিতে হচ্ছে সেবা গ্রহীতাদের। আর এক লাখ টাকার বেশি মূল্য হলে প্রতি লাখে অতিরিক্ত আরও ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়ে থাকে। একই ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের দানের ঘোষণা দলিল মূল্যের উপর সরকার নির্ধারিত ফিও ৬৫০ টাকা। কিন্তু এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তিন হাজার ৩০০ টাকা সেরেস্তা বাবদ ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া এক লাখ টাকার অধিক মূল্য হলে প্রতি লাখে দিতে হয় অতিরিক্ত আরও ৩০০ টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিনিময় দলিল করতে ব্যাংক চালানের পরও অতিরিক্ত ৪-৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে সাব রেজিস্ট্রার মিজহারুলকে। এরপর সেরেস্তা বাবদ প্রথম লাখে আড়াই হাজার এবং পরবর্তীতে প্রতি লাখে ৩০০ টাকা করে ঘুষ দিতে হয় গ্রাহককে। বন্টননামা এবং অসিয়ত দলিলের মূল্যের উপরও অতিরিক্ত এক শতাংশ হারে ঘুষ নেন সাব রেজিস্ট্রার মিজহারুল।

এসএ-বিএস খতিয়ান যদি তহসিল অফিসের হয় তাহলে সাব রেজিস্ট্রারকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। যদিও তহসিল অফিসের এসব খতিয়ান দিয়ে দলিল না করতে প্রজ্ঞাপন জারি রয়েছে। এছাড়া দলিলের মূল কপি ছাড়া দলিল করতে গ্রাহক ফটোকপি নিয়ে আসলে সাব রেজিস্ট্রারকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএ এবং বিএস খতিয়ানের সার্টিফিকেট কপি জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম থেকে সংগ্রহ করার পরও দলিল করতে গেলে ‘এটি সঠিক নয়’ জানিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন সাব রেজিস্ট্রার মিজহারুল।

দলিল লেখকের সঙ্গে সাব রেজিস্ট্রারের খাস কামরার দরজা বন্ধ করে প্রতিজনের সঙ্গে আলাদাভাবে প্রতিটি দলিলের জন্য আলাদা-আলাদা চুক্তি করতে হয়। খাস কামরায় থাকা নৈশ প্রহরী সাইফুলকে দিয়ে দলিল লেখকদের সঙ্গে টাকা লেনদেন করে থাকেন তিনি। নৈশ প্রহরী সাইফুল ইসলামের দায়িত্ব রাতের বেলা হলেও সারাদিন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে থাকেন ঘুষ লেনদেনের জন্য।

সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের একজন নাসিরনগর উপজলো সদরের বাসিন্দা মিহির দেব  বলেন, চার-পাঁচ মাস আগে আমি একটি বাড়ির দলিল করতে গিয়েছিলাম সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। সাব রেজিস্ট্রার আমার কাছে তার জন্যে মোট অংকের টাকা দাবি করেন। পরে  বাধ্য হয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়ে দলিল করেছি।

আরেক অভিযোগকারী ও দলিল লেখক সালাহ উদ্দিন বলেন, আমি দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমার লাইসেন্স বাতিলের জন্য অন্য দলিল লেখকদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছেন সাব রেজিস্ট্রার। স্বাক্ষর না দিলে কারো দলিল রেজিস্ট্রি করবেন না বলে হুমকিও দেন তিনি।

তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাসিরনগর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মিজহারুল ইসলাম  বলেন, আমার বিরুদ্ধে  করা  অভিযোগগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করে   যদি সত্য হয় তাহলে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে লেখবেন। তবে সত্য লিখবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, তার (মিজাহারুল) অফিসে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণেই এগুলো হচ্ছে। তারপরও অভিযোগগুলো আমরা তদন্ত করে দেখব। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খাঁন বলেন,মাজহারুলের বিরুদ্ধে  আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে  সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!