শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ভান্ডারিয়ায় দুই দিনে করোনা সংক্রামন হঠাৎ উর্দ্ধমূখী ভান্ডারিয়া মাদ্রাসা ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে শনিবার থেকে ৪ পৌরসভায় কঠোর লকডাউন ভান্ডারিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঘরে অগ্নিসংযোগ ভান্ডারিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতা এক জনকে পিটিয়ে আহত ঘরের দলিল ও চাবি পেয়ে হাজেরার আকুতি আহ: নিজের ঘরে থাকব, বেঁচে থাক হাসিনা’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পাওয়াদের মধ্যে একজনের আকুতি” মরে গেলেও দুঃখ নেই, মেয়েগুলোর একটা ঠাঁই হয়েছে ইন্দুরকানীতে উপজেলা পর্যায়ে নারির সেবামুলক কাজের স্বিকৃতি বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা মঠবাড়িয়ায় পৌরসভায় ৪৫ কোটি টাকার প্রাক বাজেট ঘোষাণা সিরাজুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  হিসেবে যোগ দিচ্ছেন পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বালিপাড়া ইউপি নির্বাচনে কবির হোসেন বয়াতী নৌকা প্রতিকে বিজয়ী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাস ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে নিহত ১,আহত ৩ মঠবাড়িয়ায় খালার বাড়ি বেড়াতে এসে লাশ হলো কলেজ ছাত্র ভাণ্ডারিয়ায় ইউপি নির্বাচনে জেপি মনোনিত তিন জন আওয়ামীলীগ মনোনিত এক জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে মঠবাড়িয়ায় কাল ৬টি ইউপিতে নির্বাচন ॥ ৪ স্তরের নিরাপত্তা মঠবাড়িয়ায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ২০॥ থানায় মামলা, প্রার্থীসহ ৩ জন আটক পিরোজপুরে ২০০৪ জন গৃহে পরিবার পেল মুজিব বর্ষের নতুন ঘর মঠবাড়িয়ায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ২০॥ প্রার্থীসহ ৩ জন আটক
‘ও কিসের সাংবাদিক’?

‘ও কিসের সাংবাদিক’?

‘ও কিসের সাংবাদিক’?
দীর্ঘদিন ধরে মফস্বল সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সাথে জড়িত থাকার কারণে সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করার একটু অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমার ছোট এ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সাংবাদিক সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রথম বাঁধা পেয়েছি খোদ সাংবাদিকদের কাছ থেকেই। এক সাংবাদিক আর এক সাংবাদিককে মেনে নিতে নারাজ। বিশেষ করে কতিপয় সিনিয়র সাংবাদিক জুনিয়র সাংবাদিকদের মেনে নিতে চায় না।
প্রায় সময় সিনিয়র সাংবাদিকদের বলতে শুনি ‘ও কিসের সাংবাদিক ? ‘ও কোন মিডিয়ায় কাজ করে ? এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আমি একটু নিজের কথা বলতে চাই। সালটা ১৯৯৯/২০০০ হবে। লালমনিরহাট থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক লাল প্রভাত’ পত্রিকার হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করি। হাতীবান্ধায় একটি নিউজের ঘটনাস্থলে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে এক সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তিনি ২০/২৫ জন লোকের সামনে আমাকে বলে ‘তুমি কিসের সাংবাদিক ? এই কাগজ কলম নিয়ে এই নিউজটা লিখে দাও তো তুমি কেমন সাংবাদিক ? তার কিছু দিন পর সাংবাদিক মিলন পাটোয়ারী ভাইয়ের সহযোগিতায় রংপুর থেকে দৈনিক অর্জন পত্রিকার পরিচয়পত্র পাই। সেই পরিচয়পত্র নিয়ে লালমনিরহাট এলে এক সিনিয়র সাংবাদিক পত্রিকার নাম শুনে বলেন অর্জন না অর্জুন। এটা পত্রিকার নাম না গাছের নাম? বেশি দিনের কথা নয় ২০১১ সালের দিকে হাতীবান্ধায় এক অফিসে আমাকে ভুয়া সাংবাদিক বলে আটকিয়ে রেখে ছিলেন। সেই কর্মকর্তা তখন হাতীবান্ধা থানার তৎকালীন ওসি বর্তমানে সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার তাপস সরকারের কাছে আমার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আমাকে ছেড়ে দেয়।
আমরা যারা বলি “ও কিসের সাংবাদিক ? ‘ও কোন মিডিয়ায় কাজ করে ? আমরা কি একবার নিজের চোখ বন্ধ করে নিজের সাংবাদিকতায় আসার সময়টা একটু চিন্তা করে দেখি ? আজ হয়তো আমরা দেশের প্রথম শ্রেণীর মিডিয়া হাউজে কাজ করি। কিন্তু আমি বা আমরা কোন মিডিয়ায় কাজ করার মধ্যদিয়ে সাংবাদিকতায় এসেছি তা কি ভেবে দেখেছি ? আপনার আমার সাংবাদিকতাও শুরু হয়েছে কোনো না কোনো নামসর্বস্ব মিডিয়া দিয়ে। নিজের দক্ষতায় আজ ভালো মিডিয়ায় কাজ করছি। আজ যে ছেলেটি নামসর্বস্ব মিডিয়ায় সাংবাদিকতা করছেন কাল সেই ছেলেটি দেশের প্রথম শ্রেণীর মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাবেন নিজের যোগ্যতা বলে।
এ ছাড়া প্রায় বলতে শুনি হলুদ সাংবাদিক, কথিত সাংবাদিক আর মুলধারার সাংবাদিক। যারা নামসর্বস্ব মিডিয়ায় কাজ করে তাদের বলা হয় হলুদ বা কথিত সাংবাদিক আর যারা প্রথম শ্রেণীর মিডিয়ায় কাজ করে তাদের বলা হয় মুলধারার সাংবাদিক। আমার মফস্বল সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি মফস্বল সাংবাদিকতাটা অনেকের শুরু হয়েছে হলুদ ও কথিত সাংবাদিকতা দিয়ে। সময়ের পরিবর্তনে সেই হলুদ আর কথিত সাংবাদিক হয়ে উঠে মুলধারার সাংবাদিক।
সব মিলে আমি একটি কথা আগেও বলেছি আজও বলছি, কতিপয় সিনিয়র নিজের সাম্রাজ্য যাতে নষ্ট না হয় সেই জন্য জুনিয়রদের মেনে নিতে নারাজ। কিন্তু তারা জানেন না যে যত বেশি বাঁধা পায় তার সফলতা তত কাছে । আমার সাংবাদিকতার শুরুতে যারা আমাকে পথে পথে বাঁধা দিয়েছেন তাদের সাংবাদিকতা এখন আমার উপর অনেকটা নির্ভরশীল। ১৯৯৯-২০২১ সাংবাদিকতার এ পথ চলায় একাধিক মামলা ও হামলা মোকাবেলা করে সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন প্রতিনিধি থেকে আজ দৈনিক মানবকন্ঠে জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। বাঁধা আমাকে কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে দিয়েছে। কেন আমাকে তারা সাংবাদিক হতে দিবে না ? কি আছে সাংবাদিকতায় ? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে সাংবাদিক হয়ে গেলাম। এটাই বাস্তবতা প্রিয় কতিপয় সিনিয়র সাংবাদিক সহকর্মীবৃন্দ। জুনিয়রদের ভালোবাসা দিয়ে পাশে রাখেন দেখবেন নিজে সাংবাদিকতার পথ সহজ হবে।
অনেকেই বলেন, অপ-সাংবাদিকতা বন্ধ করতে হবে। জি আপনাদের সাথে আমিও একমত। কিন্তু সাংবাদিকতার নামে অপ-সাংবাদিক কারা করছে ? যারা যুগ যুগ ধরে সাংবাদিকতা করে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন তারাই অপ-সাংবাদিকতার সাথে জড়িত। তাদের সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে গেলেই জুনিয়রদের ‘বেয়াদব’ ‘ভুয়া’ ‘কথিত’ ‘হলুদ সাংবাদিক বলে গালি দেয়া হয়। তার সাথে এখন যোগ হয়েছে ‘ও তো বিএনপি-জামাত করে। ও কিসের সাংবাদিক ? জনাব, যদি কখনো আওয়ামীলীগ বিরোধীরা ক্ষমতায় যায় তখন যে ওরা বলবেন ‘ও আওয়ামীলীগ করে, ‘ ও কিসের সাংবাদিক ?
শুভ কামনা

রইল জুনিয়র সহকর্মীদের জন্য। তোমাদের পাশে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)সহ আমি ব্যক্তিগত ভাবে আছি এবং থাকবো।

লেখক: আসাদুজ্জামান সাজু, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, লালমনিরহাট জেলা কমিটি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন










© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana