শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
১ আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা খোলা আশুগঞ্জে ৩৪ কেজি গাঁজা উদ্বার। পিকআপ সহ আটক-১ মঠবাড়িয়ায় পানিবন্দী মানু‌ষের মাঝে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ মঠবাড়িয়ায় ১২শত হেক্টর পাঁকা আউশ ক্ষেত ও ৪শত ২০ হেক্টর আমন বীজতলা পানির নিচে মঠবাড়িয়ায় বন্যার পানিতে ও বিদ্যুতের ছেড়া তারে ২জনের মৃত্যু মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার : পলাতক ২ আসামি এক বছরেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ঝালকাঠিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রেসক্লাব সেক্রেটারির নামে মামলা কাউখালীতে লকডাউন অমান্য করে বিয়ে জরিমানা করোনা টিকা নেয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ নির্ধারণ মঠবাড়িয়ায় করোনার দ্বিতীয় ধাপে ১৯৯০ জনের টিকা গ্রহণ মঠবাড়িয়ায় ভারী বর্ষণে নিঞ্চল প্লাবিত, জন জীবন বিপর্যস্ত করোনার কাছে হেরে গেলেন ঝালকাঠির বিচারক সানিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা পরীক্ষা করতে এসে একজনের মৃত্যু আশুগঞ্জে মাদক কারবারীর ছুরিকাঘাতে আহত -২ (ভিডিও) নবীনগরে নৌকা নিয়ে গান বাজিয়ে নাচানাচি করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জরিমানা রাজাপুরের সাতুরিয়ায় জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ২ সজিবওয়াজেদ জয়েরজন্মদিনে উপজেলাযুবলীগের বৃক্ষরোপণ ও দোয়া মোনাজাত ইন্দুরকানীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন এহসাম হাওলাদারের জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
ঘরের দলিল ও চাবি পেয়ে হাজেরার আকুতি আহ: নিজের ঘরে থাকব, বেঁচে থাক হাসিনা’

ঘরের দলিল ও চাবি পেয়ে হাজেরার আকুতি আহ: নিজের ঘরে থাকব, বেঁচে থাক হাসিনা’

জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতাঃ

দরিদ্র হাজেরা বেগম (৫৫)। বাড়ি সরাইল উপজেলা র চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। সহায় সম্পত্তি কিছুই নেই। নেই স্বামী ও সন্তান। বয়সও হয়েছে। এ সময়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেই জীবন-যাপন করছেন। সমগ্র দিন রোদ বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে ঘুরে সন্ধ্যায় বা রাতে বাড়ি ফিরেন। তাও আবার অন্যের ঘরে। আজ একজনের ঘরে,তো কাল আরেক জনের ঘরে। এমনই ভাবে যাযাবরের মত চলছিল হাজেরার জীবন। পেটের আহার যোগাড় করাই কষ্টসাধ্য বিষয়। নিজের জায়গা ও ঘর স্বপ্নেও কল্পনা করেননি হাজেরা। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সরকার বিনামূল্যে ঘর দিবে এমন খবরে নিজের একটি ঘরের স্বপ্ন দেখতে থাকেন হাজেরা। জনপ্রতিনিধি ও পরিচিত জনদের কাছে তখন থেকেই ধরণা দিতে থাকেন। হাজেরার দৃষ্টিতে অসম্ভব ও অকল্পনীয় বিষয়টিই বাস্তবে রূপ নিতে থাকে। হাজেরা জানতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের গৃহ প্রদানের ব্যবস্থা করছেন। হাজেরার সেই চেষ্টা অবশেষে সফল হয়। নিজের নামটি ঘর পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেন। এরপর প্রতিদিন খবর নিতে ছুটে যান ইউনিয়ন পরিষদে। ভিক্ষাবৃত্তির ফাঁকে পরিচিত জনদের জিজ্ঞেস করেন কবে আসবে শেখ হাসিনার ঘর? প্রতিদিনই অন্যের ঘরে ঘুমিয়েও নিজের ঘর পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। অবশেষে এসেছে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ। গত ১৮ জুন শুক্রবার হাজেরা খবর পায় ২০ জুন রোববার প্রধানমন্ত্রী ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সেইদিন সরাইল থেকে হাজেরাকেও জায়গার কাগজপত্র ও ঘরের চাবি বুঝিয়ে দিবেন ইউএনও। আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন হাজেরা। দু’হাত তুলে অনেকক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। এরপর দু’চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন আল্লাহ বেঁচে থাকতে নিজের ঘরে মাথা গোজার ঠাঁই করে দিয়েছ,এ জন্য শুকরিয়া আল্লাহপাকের কাছে। হাজার বছর বেঁচে থাকুক শেখ সাহেবের মেয়ে শেখ হাসিনা।
“বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০ জুন রোববার সকালে সারাদেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫৩,৩৪০ টি গৃহহীন পরিবারকে (জমিসহ) গৃহ প্রদান (আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলেও ঐ দিন দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩১ জন ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম অডিটরিয়ামে নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১২) সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম। (উরফে শিউলী আজাদ)মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালিদ জামিল খানের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন-সহকারি পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. আনিসুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুর রাশেদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াংকা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ। ঘরের কাগজপত্র বুকে চেপে ধরে হাজেরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আহ: নিজের ঘরে থাকব। বেঁচে থাক হাসিনা। সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করি। রাতে কোথায় ঘুমাব? কার বাড়িতে আশ্রয় নিব? এমন চিন্তায় থাকতাম সারাদিন। শেখ হাসিনা আমাকে জায়গাসহ একটা ঘর দিয়েছেন। তাও আবার চারিদিকে ইটের দেওয়াল। তারপর আবার ঘরের ভেতরেই টয়লেট ও রান্নাঘর। নিজের একটা ছনের ঘরই ছিল না। এত সুবিধা দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে পাব, কখনো এমনটা কল্পনাও করিনি। দু’বেলা খেতে না পারলেও শান্তিতে ঘুমাতে তো পারব। কি যে শান্তি লাগছে। বলে বুঝাতে পারব না। আমার মত আরো শতাধিক নারী পুরূষ তো হাসিনার দেয়া ঘর পেয়েছে। আমি মা শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং সরকারের জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করছি। শেখ সাহেবের মেয়েরে আল্লাহ হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখুক। দোয়া করি ইউএনও ও প্রকল্প স্যারের জন্য। প্রসঙ্গত: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তালিকায় সরাইলে মোট ৬১৮ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন নারী পুরূষের তালিকা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩১ টি পরিবার গৃহ পেয়েছেন। এর আগে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পেয়েছেন ১০২ টি পরিবার। এ পর্যন্ত সরাইলে ১৩৩ টি পরিবার বিনামূল্যে জায়গা ও গৃহ পেলেন। এরমধ্যে চুন্টার আজবপুরে ৫১টি, কালিকচ্ছের কাবিতারায় ১৫টি, পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর ও শাখাইতি গ্রামে ১৪টি, শাহজাদাপুর ও মলাইশ গ্রামে ৩০টি ও নোয়াগাঁও বুড্ডা ও আইরল গ্রামে ২৩টি গৃহহীন পরিবার জায়গাসহ গৃহ পেয়েছেন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, ঘর প্রাপ্তির তালিকায় রয়েছে মোট ৬১৮টি পরিবার। ইতোমধ্যে পেয়েছেন ১৩৩ টি পরিবার। পর্যায়ক্রমে সকলেই পাবেন। আমাদের একটি টিম রয়েছে। তারা প্রতি সপ্তাহে ঘুরেফিরে তাদের অবস্থা দেখবেন। ঘরে কোন ধরণের সমস্যা থাকলে তাৎক্ষণিক সমাধান করবেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন










© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana