বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
আবুল কালাম আজাদ (ইন্দুরকানী):
ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত পানি শোধনাগারটি দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। রোগীদের বিশুদ্ধ পানির সেবা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হলেও এটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে, ফলে রোগী ও স্বজনরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা পানি শোধনাগার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল সংশ্লিষ্ট ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মিঠুনকে তার কক্ষে ডেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে নির্দেশ দেন। তবে কর্মকর্তার সামনেই মিঠুন সাংবাদিককে বলেন পরে দেব। সাংবাদিক অনুরোধ করলে মিঠুন বলেন, আপনার ইচ্ছামতো দিতে পারব না, এখন কিছুই দেব না জানিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মিঠুন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায়, মিঠুনের বাড়ি ইন্দুরকানী উপজেলায়। উপরমহলে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিজ এলাকা ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬-৭ বছর ধারে চাকুরি করছেন। এলাকার প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন।
হাসপাতালে আসা ভুক্তভোগীরা জানান আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পানির পরিশোধন স্থাপনায় থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারে আসছে না। এর ফলে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীরা বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতভাবে পান করতে পারছেন না।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এক স্বাস্থ্যকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিদিন আমরা দেখছি রেকর্ড অনুযায়ী শোধনাগার চালু হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু যন্ত্র বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। আমরা নিজ সীমাবদ্ধতায় পানি সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন এই সমস্যা। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
পানি শোধনাগারের অপারেটর সুরঞ্জিত জানান, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মেমব্রেন অকেজ থাকায় পানি শোধন বন্ধ রয়েছে। মেমব্রেনের দাম ৯৬ হাজার টাকা।এপর্যন্ত আমরা আড়াই লক্ষ লিটার পানি শোধন করেছি। ফান্ডে পানি বিক্রির এক লক্ষ টাকা আছে। আড়াই লক্ষ লিটার পানি বিক্রি করলে ফান্ডে মাত্র এক লক্ষ টাকা কেনে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সিস্টেম লস রয়েছে। এছাড়া আর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল এর সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরনের বিষয়ে তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন ওরা আমার কথাও শোনে না। আপনি নিউজ করেন।
পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. মতিয়ার রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানাবো।
অন্যদিকে জেলা উপসহকারী স্বাস্থ্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম বলেন, তারা আমাদের কাছে চিঠি দিয়েছিল। আমরা জানিয়েছি প্লান্টের মেমব্রেন আমাদের রেটলিস্টে নেই। তাদের ফান্ডে পানি বিক্রয়ের টাকা ছিল, সেখান থেকে মেমব্রেন কিনে প্লান্টটি চালু করা সম্ভব ছিল। এত সময় লাগার কথা নয়।
উল্লেখ্য, হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দিয়ে ২০২২ সালে পিরোজপুর জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রায় ২২ লক্ষ টাকার ব্যয়ে এই প্লান্টটি স্থাপন করেছিল। এই প্লান্টটি স্থাপনের পর থেকে রোগী ও স্থানীয়রা প্রতি লিটার পানি এক টাকায় সংগ্রহ করতে পারতেন।