সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ভান্ডারিয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত কৃষি কর্মকর্তা কর্তৃক সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কাউখালীতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন কাউখালীতে সংসারের হাল ধরতে বাবার পেশা খেয়া ঘাটের মাঝি হলেন স্কুল ছাত্রী মুনিরা ভান্ডারিয়ায় টাস্কফোর্স কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের দুর্যোগ সামগ্রী বিতরণ ভান্ডারিয়ায় ফুটপাতের অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ভান্ডারিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের ৪ মহিষের মৃত্যু ভান্ডারিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনশন চার ঘন্টা পর প্রত্যাহার ভান্ডারিয়ায় দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষনের চেষ্টা॥ লম্পটের আংশিক লিঙ্গ কর্তন কারারক্ষী পদে চাকুরীর প্রলোভন অর্থ আদায় ভান্ডারিয়ায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার ভান্ডারিয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকানীকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়া অভিযোগ (ভিডিও) ভান্ডারিয়ায় পাওয়ার গ্রিডে আগুন ৫ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ৪ ঘন্টা বন্ধ কাউখালীতে এনজিও ঋনে সাধারণ মানুষ জর্জরিত মঠবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে প্রশিক্ষণ ও উপকরন বিতরণ কাউখালীতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সার্ক জার্নালিষ্ট ফোরাম বাংলাদেশ চাপ্টার এর কমিটি ঘোষণা ইন্দুরকানীতে সাঈদীর মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর মৃত্যু পিরোজপুরে জাল টাকা ব্যবসায়ীর ১৪ বছরের কারাদন্ডাদেশ ভান্ডারিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার
শয়তানের প্রধান ১০ কাজ

শয়তানের প্রধান ১০ কাজ

মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

পবিত্র কোরআনে ‘শয়তান’ (এক বচন) শব্দটি ৬৩ বার আর ‘শায়াতিন’ (বহু বচন) শব্দটি ১৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে। পৃথিবীতে শয়তান মুমিনের প্রধান শত্রু। কোরআনের অসংখ্য স্থানে আল্লাহ শয়তান সম্পর্কে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না; সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৮) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৮)

শয়তানের কাজ

আল্লাহর অবাধ্য, অভিশপ্ত ও বিতাড়িত হয়ে পৃথিবীতে আসার পর শয়তান মানুষকে প্রতারিত করে জাহান্নামে নেওয়ার মিশন শুরু করেছে। শয়তান ও তার দল মানুষকে প্রতারিত করতে যেসব কাজ করে থাকে তার কয়েকটি হলো—

১. প্ররোচনা দেওয়া : শয়তান আদম ও হাওয়া (আ.)-কে প্ররোচনা, ধোঁকা ও প্রলোভন দেখিয়ে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে উদ্বুদ্ধ করে। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বলল, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের এ গাছ থেকে নিষেধ করেননি, তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও কিংবা হয়ে যাও এখানে চিরকাল বসবাসকারী। সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বলল, আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্খী।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২১-২১)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল। বলল, হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দেবো অনন্তকাল জীবিত থাকার গাছের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১২০)

 

২. পথভ্রষ্ট করা : মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস ও প্রবঞ্চনা দ্বারা পথভ্রষ্ট করা এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত করা শয়তানের অন্যতম কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, মিথ্যা আশ্বাস দেব, তাদের নির্দেশ দেব, যার ফলে তারা পশুর কর্ণ ছেদ করবে এবং তাদের নির্দেশ দেব ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৯)

 

৩. ধোঁকা দেওয়া : ধোঁকা দেওয়া শয়তানের অন্যতম কৌশল। শয়তান আদম ও হাওয়া (আ)-কে ধোঁকা দিয়ে বলল, মানুষের পরিণাম হলো মৃত্যু, তবে এ গাছের ফল যে খাবে সে চিরজীবী হবে। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর শয়তান এ ব্যাপারে তাদের পদস্খলন ঘটাল এবং তারা যেখানে ছিল সেখান থেকে তাদেরকে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার প্ররোচনা দ্বারা বহিষ্কৃত করল।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩৬)

 

৪.  মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ : শয়তান মানুষের সামনে অশ্লীল ও খারাপ জিনিসকে আকর্ষণীয় ও উত্তম হিসেবে পেশ করে। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই সে (শয়তান) তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়। আর যেন তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলো যা তোমরা জানো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৯)

 

৫. নিজেদের দলভুক্ত করার প্রচেষ্টা : শয়তান মানুষকে বশীভূত করে নিজেদের দলভুক্ত করে নেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘শয়তান তাদের বশীভূত করে নিয়েছে। অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা মুজাদালা, আয়াত : ১৯)

 

৬. সরল পথ থেকে বিমুখ করা : শয়তান মানুষকে সহজ-সরল ও সঠিক পথ থেকে বিমুখ করতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান বলল, আপনি আমাকে যেমন উদ্ভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব। অতঃপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের বেশির ভাগকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৬-১৭)

 

৭. মানবের শিরা-উপশিরায় বিচরণ : শয়তান আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আদম সন্তানের শিরা-উপশিরায় বিচরণ ও চলাফেরা করে আদম সন্তানকে পথহারা করে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘অবশ্যই শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় বিচরণ করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১২৮৮)

 

৮. পাপকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলা : পথভ্রষ্ট করতে শয়তানের অন্যতম কৌশল হলো, পাপ কাজকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলা। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে (ইবলিস) বলল, হে আমার পালনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব। আপনার মনোনীত বান্দারা ছাড়া (তাদের কোনো ক্ষতি আমি করতে পারব না)।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৩৯-৪০)

 

৯. ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা : শয়তান মুমিনের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে ইবাদত নষ্ট করে দেয়, যাতে সে পুণ্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং আল্লাহ থেকে দূরে সরে যায়। উসমান ইবনে আবুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, আমি একবার রাসুল (সা.)-এর কাছে আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! শয়তান আমার মধ্যে ও আমার নামাজ ও কিরাতের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাতে জটিলতা সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি যখন তার উপস্থিতি অনুভব করবে, তখন তার কুমন্ত্রণা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং তোমার বাম দিকে তিনবার থু থু ফেলবে।’ (সহিহ মুসলিম)

 

১০. প্রভাব বিস্তার করা : শয়তান আদম সন্তানের ওপর স্বীয় প্রভাব বিস্তার করে। এতে সে নানাভাবে প্রভাবিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আদম সন্তানের ওপর শয়তানের একটি প্রভাব রয়েছে। অনুরূপ ফেরেশতারও একটি প্রভাব রয়েছে। শয়তানের প্রভাব হলো, অকল্যাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং সত্যকে মিথ্যায় প্রতিপন্ন করা। আর ফেরেশতার প্রভাব হলো, কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং সত্যের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণের অবস্থা উপলব্ধি করে সে যেন জেনে রাখে, এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই হয়েছে। কাজেই তার উচিত আল্লাহর প্রশংসা করা। আর যে ব্যক্তি অকল্যাণের অবস্থা উপলব্ধি করে, সে যেন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়াতটি পাঠ করে, ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।’ (সুনানে তিরমিজি)

সব মানুষের সঙ্গে শয়তান আছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সঙ্গে জিন এবং ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কাউকে সঙ্গী নিযুক্ত করা হয়নি।’ সাহাবারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার সঙ্গেও কি জিন সঙ্গী নিযুক্ত আছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, আমার সঙ্গেও আছে। তবে আল্লাহ তাআলা তার ওপর আমাকে বিজয়ী করেছেন, ফলে সে আমার অনুগত হয়ে গেছে। সে আমাকে কল্যাণকর কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজের পরামর্শ দেয় না।’ (সহিহ মুসলিম)

 

লেখক : প্রধান ফকিহ, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন










© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana