সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
রাজাপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত কাউখালীতে অবৈধ ঝাটকা ও পঁচা মাছ বিক্রি! ৪ জেলেকে মোবাইল কোর্ট সাজা প্রদান করেন ভান্ডারিয়ায় ২৫ ও ২৬ এপ্রিল স্পেশালাইজড মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে ভান্ডারিয়ায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন ঝালকাঠিতে ট্রাক চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ ঝালকাঠিতে ট্রাক-কার-অটোর সংঘর্ষ, নিহত ১২ বজ্রপাতে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু ভান্ডারিয়া পৌরসভা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা নির্বাচনি এলাকার খাজনা মওকুফের ঘোষণা দিলেন মহিউদ্দিন মহারাজ কাউখালীতে কীটনাশক পান করে কৃষকের আত্মহত্যা কাউখালীতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকা একটি পরিবারের ৪ জন সদস্য ভান্ডারিয়ায় পাসপোর্ট নিয়ে ফেরা হলো না ঘরে, সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু বুয়েট নিয়ে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা শাফায়েত হোসেন অভির কিছু কথোপকথন বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান -মহিউদ্দিন মহারাজ এমপি কাউখালীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কাউখালীতে মৎস্য সুফলভোগী জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরন ভান্ডারিয়ায় বিহারী লালমিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কাউটদের দীক্ষা অনুষ্ঠান ভান্ডারিয়ায় পিকআপে করে গরু চুরির সময় ৩ চোর আটক কাউখালী উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে জনবল সংকট থাকার কারণে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পিরোজপুরে স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত স্বামী ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার
নির্ভেজাল ভালবাসা, অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণীকে বিয়ে যুবকের!

নির্ভেজাল ভালবাসা, অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণীকে বিয়ে যুবকের!

অ্যাসিড আক্রান্ত এক বাঙালি তরুণীকে ভালবেসে বিয়ে করছেন ভিন রাজ্যের এক যুবক। আগামী মার্চ মাসের ১০ তারিখে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।

ওই প্রেমিক যুগল হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তেহট্টের মমতা সরকার ও উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের লাকি সিং।
অ্যাসিড আক্রান্ত হওয়ার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলত আক্রান্ত ওই তরুণীকে। তবে এখন সমাজের আর পাঁচটা মেয়ের মতো যে পথ চলা যায় তা সমাজকে শিখিয়েছেন তেহট্টের বিনোদ নগরের মেয়ে মমতা সরকার। তেহট্টের মহকুমা কার্যালয়ে ক্যাজুয়াল কর্মী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। আর তাকে যে বিয়ে করবেন সেই পাত্র হল উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের ছেলে লাকি সিং।

মমতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল পারিবারিক অশান্তির জেরে মমতার এক নিকট আত্মীয় তার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। সবে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু, আচমকা ওই ঘটনার পর ঠিকভাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। পড়াশোনাও আর হয়ে ওঠেনি। মুখের আকৃতির পরিবর্তন হওয়ায় মানুষের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন তিনি। সেখানে থেকে চালিয়ে ছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। এর জন্য রাত জেগে ভেবেছেন তিনি। ২০০৯ সালে নিজের মনকে ঠিক করে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে আবার পড়াশোনা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন মমতা। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকও পাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে পারিবারিক অশান্তির জেরে এক আত্মীয় মুখে অ্যাসিড ছু ড়ে মারে। তারপর মুখের আকৃতি পালটে যায়। অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। প্রথম প্রথম কয়েক বছর চোখ নিয়ে সমস্যা ছিল। এখন কিছুটা ভাল আছে। ভেবেছি এই ঘটনার পর বাড়িতে বসে থেকে কী হবে, মেয়ে মানেই তো বাড়িতে বসে থাকা নয়, মেয়েরাও পারে।
এই সমস্ত কথা ভাবনা চিন্তা করেই ৬ বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করি। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে কোনও কোম্পানিতে কাজ করার চেষ্টা চালাই। পরের বছর সেই স্বপ্ন সফল হয়। দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে চাকরি পাই। সেখানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছি। সেখানেই দেখা হয় লাকি সিংয়ের সঙ্গে। বন্ধুর মতো আমরা ছিলাম। পরে লাকি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে আমি রাজি হয়নি, কেন না আমি ভেবেছিলাম ছেলেটি আমাকে নিয়ে খুশি থাকতে পারবে না। এছাড়াও ছেলেটিকে আমি চিনিও না জানিও না। তাই প্রথমে বিয়েতে রাজি হয়নি। কিন্তু পরে আমরা একে-অপরকে বুঝেছি, তারপরই বিয়ের জন্য রাজি হই। বাড়িতে বলার পর বাবা, মা ও ভাই প্রত্যেকেই বিয়েতে রাজি হন।’

বাবা প্রফুল্ল সরকার ও মা অবলা সরকার বলেন, ‘মেয়ে যখন নিজেকে সামলে সমাজের চলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তখন মেয়ের ভালোর জন্য আমরাও বিয়েতে রাজি। ২০১৭ সালে দুর্গাপুর থেকে বাড়ি ফিরে স্থানীয় কোনও জায়গায় কাজ খোঁজে মমতা। অবশেষে তেহট্ট মহকুমা দফতরে কাজ মেলে। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত। বিয়ের পর কৃষ্ণনগরে লাকি ও মমতা একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করেছে।’

এ প্রসঙ্গে লাকি সিং জানান, ‘দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে একসাথে কাজ করতে গিয়ে মমতাকে দেখে প্রথমে আমার দুঃখ লেগেছিল। তারপর ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করি। এরপর ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে থাকি। তারপর দুটি মন এক হয়ে যায়। যদিও এই সম্পর্ক মানতে চায়নি আমার পরিবার। তিন বছরের প্রেম ও এই সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানানো হলে মা-বাবা মেনে নিতে চাননি। এই নিয়ে ভীষণ ঝামেলা হয়। মা-বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিয়ে করলে করতে পার, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখা যাবে না। তাই আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। কারণ আমি মমতাকে বিয়ে করে সুখে থাকতে চাই।’ সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana