সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কৃষি কর্মকর্তা কর্তৃক সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কাউখালীতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন কাউখালীতে সংসারের হাল ধরতে বাবার পেশা খেয়া ঘাটের মাঝি হলেন স্কুল ছাত্রী মুনিরা ভান্ডারিয়ায় টাস্কফোর্স কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের দুর্যোগ সামগ্রী বিতরণ ভান্ডারিয়ায় ফুটপাতের অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ভান্ডারিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের ৪ মহিষের মৃত্যু ভান্ডারিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনশন চার ঘন্টা পর প্রত্যাহার ভান্ডারিয়ায় দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষনের চেষ্টা॥ লম্পটের আংশিক লিঙ্গ কর্তন কারারক্ষী পদে চাকুরীর প্রলোভন অর্থ আদায় ভান্ডারিয়ায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার ভান্ডারিয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকানীকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়া অভিযোগ (ভিডিও) ভান্ডারিয়ায় পাওয়ার গ্রিডে আগুন ৫ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ৪ ঘন্টা বন্ধ কাউখালীতে এনজিও ঋনে সাধারণ মানুষ জর্জরিত মঠবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে প্রশিক্ষণ ও উপকরন বিতরণ কাউখালীতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সার্ক জার্নালিষ্ট ফোরাম বাংলাদেশ চাপ্টার এর কমিটি ঘোষণা ইন্দুরকানীতে সাঈদীর মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর মৃত্যু পিরোজপুরে জাল টাকা ব্যবসায়ীর ১৪ বছরের কারাদন্ডাদেশ ভান্ডারিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার কাউখালীতে হাতুড়ে ডাক্তার ও কবিরাজদের খপরে পড়ে সাধারণ মানুষ প্রতারণা শিকার
নির্ভেজাল ভালবাসা, অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণীকে বিয়ে যুবকের!

নির্ভেজাল ভালবাসা, অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণীকে বিয়ে যুবকের!

অ্যাসিড আক্রান্ত এক বাঙালি তরুণীকে ভালবেসে বিয়ে করছেন ভিন রাজ্যের এক যুবক। আগামী মার্চ মাসের ১০ তারিখে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।

ওই প্রেমিক যুগল হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তেহট্টের মমতা সরকার ও উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের লাকি সিং।
অ্যাসিড আক্রান্ত হওয়ার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলত আক্রান্ত ওই তরুণীকে। তবে এখন সমাজের আর পাঁচটা মেয়ের মতো যে পথ চলা যায় তা সমাজকে শিখিয়েছেন তেহট্টের বিনোদ নগরের মেয়ে মমতা সরকার। তেহট্টের মহকুমা কার্যালয়ে ক্যাজুয়াল কর্মী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। আর তাকে যে বিয়ে করবেন সেই পাত্র হল উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের ছেলে লাকি সিং।

মমতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল পারিবারিক অশান্তির জেরে মমতার এক নিকট আত্মীয় তার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। সবে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু, আচমকা ওই ঘটনার পর ঠিকভাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। পড়াশোনাও আর হয়ে ওঠেনি। মুখের আকৃতির পরিবর্তন হওয়ায় মানুষের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন তিনি। সেখানে থেকে চালিয়ে ছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। এর জন্য রাত জেগে ভেবেছেন তিনি। ২০০৯ সালে নিজের মনকে ঠিক করে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে আবার পড়াশোনা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন মমতা। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকও পাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে পারিবারিক অশান্তির জেরে এক আত্মীয় মুখে অ্যাসিড ছু ড়ে মারে। তারপর মুখের আকৃতি পালটে যায়। অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। প্রথম প্রথম কয়েক বছর চোখ নিয়ে সমস্যা ছিল। এখন কিছুটা ভাল আছে। ভেবেছি এই ঘটনার পর বাড়িতে বসে থেকে কী হবে, মেয়ে মানেই তো বাড়িতে বসে থাকা নয়, মেয়েরাও পারে।
এই সমস্ত কথা ভাবনা চিন্তা করেই ৬ বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করি। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে কোনও কোম্পানিতে কাজ করার চেষ্টা চালাই। পরের বছর সেই স্বপ্ন সফল হয়। দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে চাকরি পাই। সেখানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছি। সেখানেই দেখা হয় লাকি সিংয়ের সঙ্গে। বন্ধুর মতো আমরা ছিলাম। পরে লাকি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে আমি রাজি হয়নি, কেন না আমি ভেবেছিলাম ছেলেটি আমাকে নিয়ে খুশি থাকতে পারবে না। এছাড়াও ছেলেটিকে আমি চিনিও না জানিও না। তাই প্রথমে বিয়েতে রাজি হয়নি। কিন্তু পরে আমরা একে-অপরকে বুঝেছি, তারপরই বিয়ের জন্য রাজি হই। বাড়িতে বলার পর বাবা, মা ও ভাই প্রত্যেকেই বিয়েতে রাজি হন।’

বাবা প্রফুল্ল সরকার ও মা অবলা সরকার বলেন, ‘মেয়ে যখন নিজেকে সামলে সমাজের চলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তখন মেয়ের ভালোর জন্য আমরাও বিয়েতে রাজি। ২০১৭ সালে দুর্গাপুর থেকে বাড়ি ফিরে স্থানীয় কোনও জায়গায় কাজ খোঁজে মমতা। অবশেষে তেহট্ট মহকুমা দফতরে কাজ মেলে। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত। বিয়ের পর কৃষ্ণনগরে লাকি ও মমতা একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করেছে।’

এ প্রসঙ্গে লাকি সিং জানান, ‘দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে একসাথে কাজ করতে গিয়ে মমতাকে দেখে প্রথমে আমার দুঃখ লেগেছিল। তারপর ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করি। এরপর ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে থাকি। তারপর দুটি মন এক হয়ে যায়। যদিও এই সম্পর্ক মানতে চায়নি আমার পরিবার। তিন বছরের প্রেম ও এই সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানানো হলে মা-বাবা মেনে নিতে চাননি। এই নিয়ে ভীষণ ঝামেলা হয়। মা-বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিয়ে করলে করতে পার, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখা যাবে না। তাই আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। কারণ আমি মমতাকে বিয়ে করে সুখে থাকতে চাই।’ সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন










© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana