সোমবার, ২৭ Jun ২০২২, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
রোমাঞ্চকর ম্যাচে রাসেলকে হারাল বসুন্ধরা কিংস পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে কাউখালীতে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‌্যালি ‘এই আনন্দের দিনে কারও প্রতি ঘৃণা নয়, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’ পদ্মা সেতু উদ্বোধন: স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধন খাম ও সিলমোহর প্রকাশ পিরোজপুর থেকে মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে ৭ টি লঞ্চে আ.লীগ ও জেপির প্রায় ২০ হাজার নেতা কর্মী পদ্মা সেতু উদ্ভোধনে রওয়ানা ভান্ডারিয়ায় দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক ২ ভান্ডারিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হাওলাদার এর দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী পালিত মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টার বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী সমাবেশে মহারাজের নেতৃত্বে যাবেন ১৫ হাজার নেতাকর্মী কাউখালীতে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি চলাচলের অনপুযোগী॥ জন দূর্ভোগ চরমে ধর্ষণের পর আত্মগোপনে গিয়েও ধর্ষণ করতেন শামীম কাউখালীতে মেয়েকে উত্যাক্ত করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে জখম ভান্ডারিয়ায় ছাত্রী ধর্ষণ, ধর্ষক শামীম উত্তরা থেকে গ্রেফতার নাজিরপুরে দুই ইউপি নির্বাচন নৌকার ভরাডুবি : স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় মাসিক আইন শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় উপনির্বাচনে সদস্য পদে আব্দুর রহমান নির্বাচিত ভান্ডারিয়ায় ধর্ষক শামীমের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন কাউখালী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আবু তালহার বাবার আকুতি
নারীকে অপহরণ করে নির্যাতন, আ’লীগ ও বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নারীকে অপহরণ করে নির্যাতন, আ’লীগ ও বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ঝালকাঠিতে এক নারীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের পরে চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমি কেকা ও শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপুসহ ৬ জনের নামে আদালতে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ নির্যাতিত নারী মোসা. পারভীন (৩০) বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ সদর থানার ওসিকে অভিযোগ এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ এবং পাশাপশি বাদীর সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানের আদেশ দেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- আনিসুর রহমান তাপুর বড় বোন সেলিনা আক্তার লাকি, ছোট বোন আইরীন পারভীন এ্যানি, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাখি আক্তার এবং ফাতেমা শরীফ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার বোরহান উদ্দিন খান তার প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকিকে এক বছর আগে তালাক দেন। পরে তিনি গত ১০ জুলাই পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন। তারা ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি জেলা পরিষদের সামনে কাদের কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন। গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকি, তার ভাই ঝালকাঠি শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু ও তাঁর সহযোগী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমি কেকাসহ ৮-১০ জন তাদের বাসায় যায়। এ সময় তাঁরা ঘরের ভেতরে ঢুকে বোরহান উদ্দিন খানের দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীনকে মারধর করেন এবং ওয়্যারড্রব ভেঙে নগদ দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।

পরে ওই নারীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে শহরের বিআইপি সড়কের হিলটন নামে একটি আবাসিক হোটেলের নিচতলার একটি কক্ষে আটকে রাখে। রাতভর তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে চুন লাগিয়ে দেয়। নির্যাতন শেষে ওই নারীর চুল কেটে দেয় অভিযুক্তরা। পরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে সই নেওয়া হয়। ওই নারীর ভাই নুরুজ্জামান হাওলাদারকে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় আসামিরা। পরের দিন দুপুরে মুক্তিপণের টাকা দিলে নির্যাতিত নারীকে প্রায় অচেতন অবস্থায় ভাইয়ের হাতে তুলে দেয় আসামিরা।

নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে পারভীন আক্তার বলেন, নির্যাতনের একপর্যায়ে শারমিন মৌসুমি কেকা, তাপু, তাঁর বোন ও সহযোগীরা মিলে আমাকে সারারাত নির্যাতন চালিয়ে কিছু কাগজপত্রে সই নেয়। আমাকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়। তাদের ভয়ে আমি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাও করাতে পারিনি।

পারভীনের স্বামী বোরহান উদ্দিন খান বলেন, কেকা ও তাপুর ভয়ে আমার স্ত্রীকে সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে রাখি। সেখানে লোক পাঠিয়েও আসামিরা আমার স্ত্রী ও তার পরিবারকে হুমকি দেয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে গুম ও খুন করে ফেলার ঘোষণা দেয়। আমরা তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। মামলা দায়ের করার পরেও আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মামলার আসামি ঝালকাঠি শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু বলেন, আমার বোনকে সঠিক নিয়মে তালাক দেওয়া হয়নি। সে এখনও বোরহানের স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। এ ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমি কেকা বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি বানোয়াট ঘটনা। পারিবারিক একটি ঘটনায় আমাকে অহেতুক জড়ানো হয়েছে। সামনে পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচনে আমি মেয়র প্রার্থী, তাই আমাকে রাজনৈকিভাবে হেয় করার জন্য মামলায় জড়ানো হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন










© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana