সোমবার, ২৪ Jun ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমরা আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি- জেলা প্রশাসক জাহেদুর রহমান কাউখালীতে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে সার, বীজ ও নারকেল চারা বিতরণ ভাণ্ডারিয়ায় পিকআপের ধাক্কায় ২ পথচারী নিহত, আহত ৪ সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে এলাকার শতভাগ উন্নয়ন করা সম্ভব- মহিউদ্দিন মহারাজ এমপি ভান্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী বায়জিদ কাউখালীতে মাদ্রাসার ছাত্রের আত্মহত্যা কাজল সভাপতি- নুর উদ্দিন সম্পাদক পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ভাণ্ডারিয়ায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক ভান্ডারিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের খাদ্য সহয়তা বিতরণ কাউখালীতে ত্রাণ না পাওয়া মহিলা মেম্বারের পরিবারের উপর হামলা। নিহত-১ গ্রেফতার-২ কাউখালিতে ঘূর্ণিঝড় রিমেলে বিধ্বস্ত জোলাগাতি মাদ্রাসা , খোলা আকাশের নিচে পাঠদান ভান্ডারিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শক্তি ফাউন্ডেশনের সহায়ত প্রদান কাউখালীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী পালন করা হয় মঠবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতা বাতিলের পরও সভা : কর্মীদের বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুতির নির্দেশ মঠবাড়িয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজের প্রার্থিতা বাতিল কাউখালীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ ৪ প্রার্থী জামানত হারান কাউখালীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবু সাঈদ মিয়া পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত ভান্ডারিয়ায় মিরাজুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রাজপথে মোকাবেলা করতে হবে — যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ
সালাম দেওয়া, হিজাব পরা বন্ধ, নাম পরিবর্তন দিল্লির মুসলমানদের

সালাম দেওয়া, হিজাব পরা বন্ধ, নাম পরিবর্তন দিল্লির মুসলমানদের

গত রোববার রাত সাড়ে ১১টায় দিল্লি মেট্রো দিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে শাহীনবাগের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। পাশে এক তরুণকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই মেট্রো কি শাহীনবাগ যাচ্ছে?’ শাহবাজ রিজবি নামে ওই তরুণ জবাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, ৩ স্টেশন পরেই।’ শাহবাজ খেয়াল করলেন যে, ওই লোক বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন। পুরো পথে তাকে আতঙ্কিত দেখাচ্ছিল। এ দেখে শাহবাজ কৌতুহলী হলেন। তবে কারণ বোঝার জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। ওই লোক যখন জসোলাবিহার-শাহীনবাগ স্টেশনে নেমে গেলেন, শাহবাজ দেখতে পেলেন যে তিনি প্যান্টের পকেট থেকে টুপি বের করলেন। নেমে শাহীনবাগে ঢুকে তিনি টুপিটি পরলেন। ওই রোববারই দিল্লির পূর্বাঞ্চলে দাঙ্গা শুরু হয়।
মেট্রোর ওই লোকের কথা স্মরণ করে রিজবি বলেন, ‘ওই ঘটনা থেকে আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এক বুড়ো মানুষ, হয়তো ধর্মকর্ম করেন, তিনি প্রকাশ্য স্থানে ঝামেলা এড়াতে টুপি পরা থেকে বিরত ছিলেন। দিল্লির পরিবেশ মুসলিমদের প্রতি শত্রু ভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। দিল্লির সাম্প্রতিক দাঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়কে ভয় পাইয়ে দিয়েছে ভীষণ।’
রিজবি নিজে জামিয়ানগর এলাকায় এক কোচিং সেন্টারে পদার্থ বিজ্ঞান পড়াতেন। গত বছরের নভেম্বরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের পর, তিনি আর পড়াতে যান না। তার ভাষ্য, ‘আমার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই জামিয়ার ছাত্র ছিল। তাদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আমার ছিল না।’
‘মুসলিমদের মতো পোশাক পরো না, মুসলিমদের মতো কথা বলো না’
এখন অনেক মুসলিমের অবস্থা মেট্রোর ওই বৃদ্ধ লোক, বা শাহবাজের চেয়েও করুণ। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খান সাফাহাদ হিজাব পরেন। নিয়মিত ধর্ম পালন করেন। কিন্তু এখন তাকে ঘরেই থাকতে হয়। অন্যথায় বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি মেনে নিতে হয়। অর্থাৎ, হিজাব পরা থেকে বিরত থাকতে হবে। দিল্লির দাঙ্গার পর বাসা থেকে আর বের হননি তিনি। নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নেতিবাচক পরিণতির শঙ্কা তার আগেও হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করছিলাম, আমি চিন্তিত ছিলাম যে, যদি আমার হিজাব পরিহিত অবস্থায় তোলা ছবি সিভিতে ব্যবহার করি, তাহলে হয়তো আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। আমি অতীতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু সিভিতে তাদের নাম উল্লেখ করিনি। শুধু লিখেছি অবহেলিত মানুষের সঙ্গে সামাজিক কাজ। আমি সব সময়ই চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকি। শুধু ডানপন্থীদের কাছ থেকে নয়, আমার নিজের সম্প্রদায়ের লোকদের থেকেও।’ তিনি আরও যোগ করেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গা তার চোখ খুলে দিয়েছে। নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তিনি অনেক সচেতন হয়েছেন এখন। সচেতন হয়েছেন বছরের পর বছর ধরে তার সম্প্রদায়ের ওপর চলা পদ্ধতিগত নির্যাতন নিয়েও।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মেহরিন ফাতিমা। তিনি প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, তিনি প্রকাশ্যে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘সালাম’ বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে যখন, আশেপাশের লোকজন মুসলিম-বিরোধী মন্তব্য করে। তিনি বলেন, ‘মানুষ মুসলিম নারী হিসেবে যেই বেশভূষা ভাবে, আমি হয়তো তেমন নই। ফলে আমি প্রায়ই শুনে যাই যে, মানুষ কী ভয়ানকভাবে মুসলিম-বিদ্বেষ ছড়ায়, তা-ও হয়তো আমার সামনেই। এ কারণেই বাইরে থাকলে ফোনালাপে সালাম বা আল্লাহ হাফেজ শব্দ বলি না। পাছে যদি কেউ শুনে ফেলে, তাহলে হয়তো বিপদ ডেকে আনবো।’ তিনি আরও বলেন, এখন আমি বাইরে থাকলে হোয়্যাটসঅ্যাপও খুলিনা। কারণ সেখানে কনট্যাক্ট লিস্টের বেশিরভাগ মানুষই মুসলিম আত্মীয়। তিনি বলেন, ‘আমি এখন নিজের নাম যখনই বলি, তখনই মনে হয় যে আমার প্রতি ওই ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যাবে। সব সময় যে ঘটে তা নয়, কিন্তু আমি এখন নিজের নাম উল্লেখ করা নিয়ে দ্বিধায় ভুিগ। একেবারে প্রয়োজন না হলে, নিজের পারিবারিক নাম উল্লেখ করি না। কারণ, পারিবারিক নাম তো মুসলিম। এই দাঙ্গা এতটাই ক্ষতি করেছে আমাদের।’
সম্প্রতি সিনেমা হলে এক ঘটনা চোখে পড়ে তার। তার ভাষ্য, ‘আমরা সবাই জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে দাঁড়ালাম। শেষ হলে, আমার পেছনে বসা একদল লোক জোরে বলে উঠলো জয় শ্রী রাম। আশেপাশের সবাই তেমন গা করলো না। যেন এটাই স্বাভাবিক। এই দেশ কি সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, যেখানে আমি ফোন শেষে সালাম বলতে অনিরাপদ বোধ করি, কিন্তু অন্যরা কোনো ভয় ছাড়া প্রকাশ্যে চিৎকার করে তাদের ধর্মীয় স্লোগান দিতে পারে? কিন্তু আমি বুঝি যে, আমরা আসলে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ধর্মনিরপেক্ষতার ভুয়া মুখোস ইতিমধ্যে খসে পড়েছে।’
সাইমা রেহমান হলেন দিল্লির সুভদ্র কলোনির বাসিন্দা। তার বোন আদিবা স্কুলে পড়ে। একদিন মেট্রোতে তারা এক সঙ্গে যাচ্ছিলেন। আদিবা তখন তার কানে কানে বললো, ‘আপু, আমার মেট্রোর নাম হলো অঞ্জলি। ঘরের নাম আদিবা।’ এমনকি, একবার মেট্রোতে থাকা অবস্থায় ফোনে কথা বলতে গিয়ে সে বলে উঠে, ‘জয় শ্রী রাম! আমি মেট্রোতে আছি।’
সাইমা বলেন, ‘স্কুলে থাকা অবস্থায় আমরাও ইসলাম-বিদ্বেষ দেখেছি। কিন্তু যখন দেখলাম আমার নিজের ছোট বোন নিজেকে বাঁচাতে তার পরিচয়ের অংশই লুকিয়ে ফেলছে, তাও এত ছোট বয়সে, তখন খুব যন্ত্রণা লাগলো। আমার ভাই বহুদিন ধরে সংশয়বাদী। কিন্তু দাঙ্গার পর সে-ও আল্লাহর কাছে প্রার্থণা শুরু করেছে শান্তির জন্য।’
সাইমার বসবাস মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায়। দাঙ্গার পর ৩ দিন ধরে বাসা তালাবদ্ধ রেখেছেন তার বাবা। তিনি বলেন, বাবা সব সময় ভাবতেন যে, মিশ্র এলাকায় থাকাটাই বাচ্চাদের জন্য ভালো। কিন্তু প্রতিবেশীদের প্রতি তার আস্থা এখন শূন্যের কোঠায়। অথচ, গত ১৫ বছর ধরে তাদের সঙ্গে একই এলাকায় থাকছেন তিনি। তিনি অবশেষে বন্ধুবান্ধব আর পরিবারের দীর্ঘদিনের পরামর্শ মেনে নিয়ে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় যাওয়ার কথা ভাবছেন।
নাস্তিক হয়েও শান্তি নেই। ওয়ামিক গাজধার একজন ডাক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ঘোরতর নাস্তিক। কিন্তু আমি এত বেশি বিদ্বেষ পেয়েছি স্রেফ শুধু নামে মুসলিম হওয়ার কারণে। আমার ভালো বন্ধুরা পর্যন্ত আমার বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সহজে নেয় না। তাদের ধারণা আমার হয়তো মৌলবাদীদের প্রতি সহানুভূতি থাকতে পারে!’
দিল্লিতে বসবাস করেন হাকিম আফজাল। তার মূল নিবাস কাশ্মীর। তিনি বলেন, অনেক মুসলিম ভয়ে শুধু নিজের পোশাক-আসাক বা চেহারাই পাল্টাননি। অনেকে নিজেদের কথা বলার ধরণও পাল্টিয়েছেন। আফজাল একজন ইতিহাসবিদ। তিনি ২০১৭ সালে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া থেকে রাজনীতি বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘কথা বলার সময় মানুষ এখন সালাম বা খোদা হাফেজ- এই শব্দগুলো ব্যবহার করেন না। মেট্রোতে বা অন্য প্রকাশ্য স্থানগুলোতে বই পড়া নিয়েও আমি সতর্ক থাকি। আমি পাকিস্তান নিয়ে বিভিন্ন সাহিত্য পড়ি। কিন্তু ভেবে দেখুন এসব যদি আমি প্রকাশ্যে পড়ি, তাহলে কী হতে পারে! যদিও এটি আমার সিলেবাসের অংশ। আমি এখন প্রকাশ্যে হাঁচি দেয়া নিয়েও ভয়ে থাকি। কারণ, হাঁচি দিলে সহজাতভাবেই মুখ দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বের হয়ে আসে।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!