সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় রাজপাশা দারুশ শরীয়াত দাখিল মাদ্রাসার টিনশেড ভবনটি ঘূর্ণিঝড় রেমালে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ২৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে মাদ্রাসায় পুরোনো টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধান্ত হয়ে যায়। টিনশেড ঘরটিতে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক মিলনায়তনসহ সকল কক্ষের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বেঞ্চ ও চেয়ার এনে খোলা আকাশের নিচে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। ভবন ছাড়া কোমলমতি শিশুরা রোদে পুড়ে, বর্ষায় ভিজে পাঠ নিচ্ছে। এমন অবস্থায় কিছু শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে অন্য প্রতিষ্ঠানে।
শিক্ষার্থীরা বলে, ঘূর্ণিঝড় রেমালে মাদ্রাসাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। সামনে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা। ক্লাস না করলে পিছিয়ে পড়ব। তাই রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করানো হচ্ছে। অতি দ্রুত আমরা মাদ্রাসার ভবন চাই।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, রেমালে মাদ্রাসাটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পার্শ্ববর্তী সাইক্লোন শেল্টারের নিচে ক্লাস করতে গেলে নানা বাধাবিপত্তি আসে। রোদ আর গরমে ক্লাস করতে খুবই অসুবিধা হয়।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার বলেন, এখানে লেখাপড়ার কোনো পরিবেশ নেই। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা, এখন ঠিকমতো পাঠ না নিতে পারলে শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
অভিভাবক আব্দুর কুদ্দুস ও রুবিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক বছরের পুরোনো একটি মাদ্রাসা, পড়াশোনা ও ফলাফলেও ভালো। এ কারণে ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। অথচ মাদ্রাসাটিতে কোনো পাকা ভবন নাই, খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাটিতে একটিমাত্র টিনশেড ঘর ছিল। একই ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান হতো। ঘূর্ণিঝড় রেমালে মাদ্রাসাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। যে কারণে শিক্ষার্থীদের খোলা মাঠে পাঠদান করানো হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত একটি ভবন না হলে দ্বীনি এলেম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াছিন আরাফাত রানা বলেন, ‘সুপার সাহেব লিখিতভাবে জানিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী রাজপাশা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে। আপাদত সেখানে পাঠদান চলবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’